‘সম্পর্কে ফুলস্টপ পড়েনি’ বলেছিলেন সোহেল, কিন্তু তিয়াসার কথায় অন্য সুর! কী হয়েছে দু’জনের মধ্যে? সম্পর্ক কি তবে সত্যিই ভেঙেছে?

কখনও কাছাকাছি, কখনও দূরত্ব টলিপাড়ার এই জুটিকে নিয়ে জল্পনা অবশ্য নতুন নয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থেকে প্রেম, তারপর মনোমালিন্য, আবার একসঙ্গে পথ চলা তিয়াসা লেপচা ও সোহেল দত্তের সম্পর্কের গল্পে ইতিমধ্যেই এসেছে একাধিক বাঁক। কয়েক দিন আগে সমাজমাধ্যমে একে অপরকে আনফলো করা এবং পুরনো ছবি সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই ফের তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। সেই সময় সোহেল অবশ্য বিচ্ছেদের খবর মানতে চাননি। জানিয়েছিলেন, সম্পর্কে সামান্য মান-অভিমান হয়েছে মাত্র। কিন্তু এবার তিয়াসার বক্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা।

সম্প্রতি তিয়াসা ও সোহেল দু’জনেই সমাজমাধ্যমে একে অপরকে আনফলো করেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের একসঙ্গে তোলা ছবিও আর দেখা যাচ্ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই অনুরাগীদের মনে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি ফের সম্পর্কে ভাঙন ধরেছে? এর আগেও তাঁদের মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০২৩ সালে প্রেমের কথা প্রকাশ্যে আসার কিছুদিন পরই মনোমালিন্য তৈরি হয় দু’জনের মধ্যে। যদিও পরে সেই দূরত্ব মিটিয়ে ফের একসঙ্গে দেখা যায় তাঁদের। এমনকি ২০২৪ সালের ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন তাঁরা।

এবারের পরিস্থিতিতে অবশ্য সোহেল প্রথমেই বিচ্ছেদের জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছিলেন।সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন, যে কোনও সম্পর্কেই একটু-আধটু মান-অভিমান হয়। তাঁদের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। একে অপরকে আনফলো করার কারণও সেই অভিমান বলেই দাবি করেছিলেন তিনি। এমনকি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিয়াসার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়নি। অর্থাৎ সোহেলের বক্তব্যে তখনও সম্পর্ক টিকে থাকার ইঙ্গিতই ছিল।

এরপর এবার মুখ খুললেন তিয়াসা। তবে তাঁর বক্তব্যে সরাসরি ‘বিচ্ছেদ’ শব্দটি নেই। বরং তিয়াসা জানিয়েছেন, কারও সঙ্গেই তাঁর দূরত্ব নেই। তিনি নিজেকে এমন একজন মানুষ হিসেবেই দেখেন, যিনি সকলকে ভালোবাসেন এবং সকলের ভালোবাসাও পান। তাঁর কথায়, কারও সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার কোনও সম্ভাবনাই নেই। সোহেলের প্রসঙ্গেও সরাসরি কোনও অভিযোগ বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঘোষণা করেননি অভিনেত্রী। ফলে তিয়াসার এই মন্তব্যের পর আরও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

তিয়াসার ব্যক্তিগত জীবনে এর আগেও সম্পর্ক ভাঙার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ‘কৃষ্ণকলি’ খ্যাত অভিনেত্রী প্রথমে সুবান রায়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। প্রায় সাড়ে তিন বছর সংসার করার পর পারস্পরিক সম্মতিতে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে সোহেলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। এই সম্পর্কও একবার ভেঙে গিয়েছিল, কিন্তু দু’জনেই পরে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে আবার একসঙ্গে ফিরেছিলেন। তিয়াসা নিজেই অতীতে জানিয়েছিলেন, আলাদা থাকার সময় তাঁরা একে অপরের অভাব অনুভব করেছিলেন।

আরও পড়ুনঃ রোলেক্স থেকে কোটি টাকার বিনিয়োগ, ১৬ কোটিরও বেশি সম্পত্তির খাতিয়ান! প্রকাশ্যে নায়িকার সম্পত্তি

তাই এবারও কি শুধুই মান-অভিমান? নাকি সম্পর্কের সমীকরণে সত্যিই বদল এসেছে? আপাতত সেই উত্তর স্পষ্ট নয়। সোহেল যেখানে আগেই বলেছিলেন সম্পর্ক শেষ হয়নি, সেখানে তিয়াসার সাম্প্রতিক মন্তব্যেও সরাসরি বিচ্ছেদের কথা নেই। ফলে সমাজমাধ্যমের আনফলো বা ছবি মুছে ফেলা যতই নতুন জল্পনা তৈরি করুক, দু’জনের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও স্পষ্ট বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি। তবে তিয়াসার এই মন্তব্য যে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলাই যায়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর