এরকম ঘটনা একমাত্র সিনেমাতে দেখা যায়। হুগলিতে এবার যা কান্ড ঘটল তা পড়ে মাথায় হাত সকলের। কিছুদিন আগেই একটি খবর সকলের নজর কেড়েছিল তা হল বালির নিশ্চিন্দার দুই গৃহবধূ শ্রীরামপুর থেকে নিখোঁজ। এক গৃহবধূর সঙ্গে তার ছেলেও ছিল। সকলেই ভেবেছিলেন তারা বোধহয় অপহৃত হয়েছেন। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ যা জানতে পারল তাতে মাথায় হাত সকলের।
ওই দুই গৃহবধূর নাম রিয়া কর্মকার আর অনন্যা কর্মকার। অনন্যার ছেলের নাম অরিন কর্মকার। গত 15 ডিসেম্বর সকালে তারা নিখোঁজ হয়ে যান। বাড়িতে বলে গেছিলেন তারা শ্রীরামপুরে একটি দোকানে যাচ্ছেন শীতবস্ত্র কিনতে। নিখোঁজদের পরিবারের তরফে লিলুয়া, বেলুড় ও নিশ্চিন্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ রিয়া কর্মকারের মোবাইল নাম্বার ট্র্যাক করে। তার চারদিন পরে রিয়া এবং অনন্যার খোঁজ মেলে। কিন্তু তাদের উদ্ধার করতে পুলিশ পারেনি। পুলিশের দাবি এই দুই গৃহবধূ এবং এক গৃহবধূর ছেলেকে নিয়ে স্বইচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছে। তারা অপহৃত হয়নি।
হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি নর্থ অনুপম সিংহ জানান, গৃহবধূরা স্বইচ্ছায় মুর্শিদাবাদের সুতির দুই যুবকের সঙ্গে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন এই দুই যুবকের নাম শেখর এবং সুভাষ। কয়েক মাস আগে তারা বালির নিশ্চিন্দার ওই বাড়িতে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে এসেছিল। সেই সময় বাড়ির দুই বউয়ের সঙ্গে এই দুই রাজমিস্ত্রির ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই ঘনিষ্ঠতা পরে প্রণয়ের সম্পর্কে পৌঁছায়। তারা কাজ শেষ করে চলে গেলেও ফোনে যোগাযোগ ছিল তাদের মধ্যে। তাই প্রেমের টানে নিজের ছোট ছেলেকে নিয়ে ঘর ছেড়েছেন এই দুই গৃহবধূ।
তারা প্রথমে মুর্শিদাবাদে যায়। সেখানে এক দিন থাকার পর সকলে মিলে মুম্বাই রওনা দিয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে এখনো সক্ষম হয়নি। এই পরিস্থিতিতে লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে বালির কর্মকার পরিবারের। তারা জানিয়েছেন যে তারা অরিন কর্মকারকে ফিরে পেতে চান। বাকি দুই গৃহবধূ সাবালিকা। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিতে পারবেন।





