এখনকার দিনে সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেট খুবই প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তার মধ্যে থেকে ইউটিউব মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটা অঙ্গ হয়ে উঠেছে। যেখানে মানুষ বিনোদনের সমস্ত মজা পায়। আবার নিজের জীবন চালানোর মতো রোজগারও হয়। এখন ইউটিউব হয়ে গিয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য অতি লাভজনক একটি প্লাটফর্ম। আজকাল মানুষ youtube-এর মারফত রোজগার করে উঠতে পারছেন। কেউ নিজের প্রতিভাকে ইউটিউবে প্রদর্শন করছেন। আবার কেউ নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন মানুষজনকে। কেউ শখে ইউটিউব করছেন, কেউ আবার নানা বিষয়কে নানা ভাবে তুলে ধরে এই প্লাটফর্মের দরুন টাকা কামাচ্ছেন। এই সমস্ত প্রতিভাবান ব্যক্তিত্বের একসঙ্গে নাম দেওয়া হয়েছে ইউটিউবার।
সমীক্ষা বলছে আজকাল ইউটিউবাররা সবথেকে জনপ্রিয় মানুষের কাছে। সবথেকে বেশি ইউটিউব করে এরাই টাকা ইনকাম করছে। এরমধ্যে নাম রয়েছে অনেকের। তারমধ্যে প্রথম পাঁচে রয়েছেন বিদ্যা আইয়ার, ভুবন বাম, গৌরব চৌধুরী, অজয় নাগার এবং সবথেকে জনপ্রিয় নাম সন্দীপ মহেশ্বরী। এদের ইউটিউব চ্যানেলগুলি মূলত এদের আসল নামে নয়। একেক জনের ইউটিউব চ্যানেলের নাম একেকটি। শুরু করা যাক বিদ্যা আইয়ারের ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে।
বিদ্যা আইয়ারের ইউটিউব চ্যানেলের নাম ‘বিদ্যা ভক্স’। চ্যানেলটি ২০১৭ সালে শুরু হয়। মূলত তাঁর অ্যালবাম ‘কুঠুরে’ এবং একটি নির্দিষ্ট গান ‘বি-ফ্রি’ দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন এই ইউটিউবার। এই মুহূর্তে তিনি আমেরিকার বাসিন্দা। এমনিতে জন্মগ্রহণ করেছেন চেন্নাইতে। যখন ৮ বছর বয়স, তখন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছেন এই জনপ্রিয় ইউটিউবার। এই মুহূর্তে ৭.৪২ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার রয়েছে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে। এই ইউটিউব চ্যানেলের দরুন তিনি আয় করেন প্রতিবছর ৭৬ লক্ষ টাকা।
যেখানে একজন কামাচ্ছে বছরে ৭৬ লক্ষ টাকা, সেখানে একজন ভারতীয় কমেডিয়ান কামাচ্ছে ১০ কোটি টাকা। তাঁর নাম ভারতীয় কমেডিয়ানদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ভারতের দিল্লি থেকে এসেছেন ভুবন বাম। মূলত তিনি ‘বিবি কি ভাইনস’-এর মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। ২৭ বছর বয়সে মজার মজার ভিডিও তৈরি করেছেন এবং ভিডিওতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আজ তাঁর চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার ২০.৮ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখন নানা ইভেন্টেও যোগদান করে থাকেন ভুবন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ফলোয়ার ১১ মিলিয়ন। পাশাপাশি কয়েকটি গানও প্রকাশ করেছেন তিনি। এই মুহূর্তে ইউটিউব আর ইনস্টাগ্রাম দিয়ে তাঁর বার্ষিক ১০ কোটি টাকার বেশি আয় হয়।
এরপর এই তালিকায় নাম আছে গৌরব চৌধুরীর। এই ব্যক্তিত্বের ১টি নয় ২টি সফল ইউটিউব পেজ রয়েছে। এই ইউটিউবার দুবাই পুলিশ সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে কাজ করে থাকেন। তাঁর টেক পেজের টেকনিক্যাল গুরুজির ২১.৬ মিলিয়ন গ্রাহক রয়েছে এবং তাতে রয়েছে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি ভিডিও। পাশাপাশি এই গৌরব চৌধুরীর এইচটি ব্রাঞ্চে একটি প্রযুক্তি পর্যালোচনার কলামও রয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশ্বব্যাপী ইউটিউব সংবেদনগুলির মধ্যে একটি হলো গৌরব চক্রবর্তীর ইউটিউব চ্যানেল।
তারপর নাম রয়েছে একজন গেমিং ইউটিউবারের। নাম নাগার। সে গেমিং-এর জন্য বেশি জনপ্রিয়। তিনি নিজের প্রচেষ্টায় একটি ডিস ট্র্যাকও প্রকাশ করেছিলেন। খেলায় তার নাম ‘ক্যারি মিনাতি’। তাঁর ১২.১ মিলিয়ন গ্রাহক রয়েছে এবং ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ফোবর্স-এর আন্ডার ৩০’র লিস্টে জায়গা করে নিয়েছেন। এরপর আসা যাক সবথেকে ধনী ইউটিউবারের কাছে। তিনি কোনো গেম-গান বা মিমিক্রি করে রোজগার করেন নি।

তাঁর নাম পৃথিবীর সবথেকে মোটিভেশনাল স্পিকারের মধ্যে এক নম্বরে আছে। তিনি আর কেউ নন সন্দীপ মহেশ্বরী। কী করে নিজের ডিপ্রেশন, কী করে নিজের সমস্ত সমস্যা দূর করা যাবে, তাঁর রাস্তা দেখিয়ে দেন সন্দীপ মহেশ্বরী। মোটিভেশনাল স্পিকার হয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা কামিয়ে বেড়াচ্ছেন। খুব কম লোকই তাঁর মত এত বড় হতে পেরেছেন। নিজেকে আরো ভালো করে জানার আকাঙ্ক্ষা, নিজেকে একজন মধ্যবিত্তের লোক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি নানা শিক্ষা দিয়ে গিয়েছেন লোকজনকে। তাঁর বিভিন্ন প্রেরণামূলক ভিডিও দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাঁর নিজের ২১ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। এরই মধ্যে অনেক কোটি টাকা উপার্জন করেছেন। ইউটিউব ছাড়াও তাঁর নিজের ওয়েবসাইট রয়েছে। যেখানে তিনি SMtv চালিয়ে থাকেন। আজ এক নামেই সকলে তাঁকে চেনেন। এরকম আরও নানা ব্যক্তিত্ব রয়েছে যাদের নাম এখন সকলের জানা। তাঁরা কোনো জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী নন। কিন্তু তাঁরা এমন কাজ করে বেড়ান ইউটিউবে, যা সকলের মন ছুঁয়ে যায়।





