প্রায় একরকম সকলকে চমকে দিয়েই গতকাল তৃণমূলে যোগ দেন বাবুল সুপ্রিয়। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক কপম হয়নি। তা এখনও চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আপাতত বাবুল সুপ্রিয়ই চর্চার শীর্ষে। বাবুল যেহেতু রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মহলেরও মানুষ, এই কারণে সাংস্কৃতিক মহলের একাংশও তাঁকে নিয়ে নানান মন্তব্য করছেন।
এবার বাবুলের দলবদল নিয়ে মুখ খুললেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ কবীর সুমন। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ তোপ দেগেই তিনি লিখলেন, “আমি রাজনীতির লোক নই। রাজনীতিতে থেকে দেখেছি ওটা আমার জায়গা নয়। তবু, আজ জীবনে প্রথম মনে হচ্ছে একটা দল খুলি”।
ফেসবুক পোস্টে কবীর সুমনের তোপ দেগেই বলেন, “শুধু ‘আপনার মমতাময়ী’ বলে গায়ে পড়ে বিদ্রুপ করা এই মুসলিমবিদ্বেষী, এনআরসি পন্থী, বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষী বাবুল সুপ্রিয় মহোদয় এখন ‘তাঁর মমতাময়ী’ সম্পর্কে কী ভাবছেন, তৃণমূলে তাঁর কাছের মানুষরা হয়ত জানতে চাইছেন”। আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে তিনি আরও লেখেন, “আমার বয়স হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও দুর্বল নই। এবং আমি একা নই। যা পেয়েছি তা ফেরত দিয়ে তবে মরব”।
ফেসবুক পোস্টে কবীর সুমন এও বলেন যে উল্লেখ বাবুল সুপ্রিয় কীভাবে তাঁকে ‘স্রেফ গায়ে পড়ে অপমান’ করেছিলেন। কিন্তু কবীর সুমন ওয়েই সময় কোনও পাল্টা অপমান কিন্তু করেন নি, এও উল্লেখ করেন সুরকার। এবার সেই অপমান তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলে পোস্টে স্পষ্ট জানান তিনি। কবীর সুমন বেশ স্পষ্টভাবেই নিজের পোস্টে লিখেছেন, “আদ্যন্ত শ্রীরামকৃষ্ণবাদী এই আমি মনে করি ছোবল মারব না, কিন্তু ফোঁস করব বৈকি”।
আরও পড়ুন- ‘বাবুল স্টার, সাংসদ, ওঁ কখনও বিজেপির হতে পারেনি’, অবশেষে বাবুলের দলবদল নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ
তবে কবীর সুমনের এই সোশ্যাল মিডিয়া আক্রমণে খুব একটা বেশি আমল দিচ্ছেন না বাবুল সুপ্রিয়। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “এটা ওঁর ব্যক্তিগত মত, যা ইচ্ছে হয়েছে, তাই বলেছেন। আমার ফোনে ফেসবুক, টুইটার নেই। আমি কিছু বলব না এসব নিয়ে”।
তবে রাজনীতি মহলের বাইরেও যে নানান মহলেই বাবুলের এই দলবদল নিয়ে বেশ চর্চা হচ্ছে, তা সোশ্যাল মিডিয়া দেখলেই বোঝা যায়। কবীর সুমনের মতো অন্যান্য সাংস্কৃতিক মহলের মানুষজন যারা রাজনীতির সঙ্গে সামান্য যুক্ত, তারা বাবুলের এই কার্যকলাপ নিয়ে কন মন্তব্য করেন কী না, এখন সেটাই দেখার।





