আর নয় কোলেস্টেরলের ভয়! মাত্র এক ইনজেকশনে সারা জীবনের জন্য মুক্তি, কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগ। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের মতো সমস্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কোলেস্টেরলের প্রকোপ। চিকিৎসকদের মতে, কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হৃদযন্ত্রের সমস্যা থেকে ব্রেন স্ট্রোক— বড় বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হয়। অথচ জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের অনিয়মের ফলে অধিকাংশ মানুষই এই সমস্যার শিকার। চিকিৎসা তো রয়েছেই, কিন্তু তার সঙ্গে রয়েছে কড়া নিয়মকানুন, ওষুধের বোঝা এবং রোগীর মানসিক দুশ্চিন্তা।

বিশেষত বাঙালির রসনাতৃপ্তির সঙ্গে কোলেস্টেরল যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে! লুচি, বিরিয়ানি, মাংস— এসব বাদ দিয়ে অনেকেরই দিন কাটানো কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু একবার যদি ‘হাই কোলেস্টেরল’ ধরা পড়ে, তাহলেই শুরু হয় বিধিনিষেধ। নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, চেকআপ, ডায়েট চার্ট মেনে চলা— সব মিলিয়ে যেন এক আজীবন যুদ্ধ। তবে এবার এই যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে! বিজ্ঞানীরা বলছেন, এক ইনজেকশনেই সারা জীবনের মতো কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কোলেস্টেরল সাধারণত দুই ধরনের— ভালো (HDL)খারাপ (LDL)। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও, বেশি মাত্রায় LDL জমলে তা ধমনীতে ব্লক তৈরি করতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বর্তমানে কোলেস্টেরল কমানোর জন্য ওষুধ ও ইনজেকশন ব্যবহৃত হয়, তবে তা আজীবন নিতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ ধরনের ‘এপিজেনেটিক মডিফায়ার্স’ পদ্ধতির মাধ্যমে শরীরের এক বিশেষ প্রোটিনকে ব্লক করলেই এই সমস্যা চিরতরে দূর হতে পারে। এটি কীভাবে কাজ করবে? সাধারণত লিভারে থাকা LDL রিসেপ্টর খারাপ কোলেস্টেরল শোষণ করে তা মেটাবলাইজ করে। তবে BCSK9 নামক এক প্রোটিন এই রিসেপ্টর ধ্বংস করে, যার ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। গবেষকদের দাবি, ‘ক্রিসপার’ নামে এক জিন থেরাপি ইনজেকশনের মাধ্যমে এই প্রোটিনের উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হবে, যার ফলে LDL কোলেস্টেরল সহজেই নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

গবেষণাটি এখনও পরীক্ষামূলক স্তরে রয়েছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্রাণীর উপর সফলভাবে পরীক্ষা চালানো হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে একবার এই ইনজেকশন প্রয়োগের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। তবে মানবদেহে এই পদ্ধতি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনও পরীক্ষা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই গবেষণা সফল হয়, তবে ভবিষ্যতে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আর নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। বছরে একবার বা দু’বার ইনজেকশন নিলেই কোলেস্টেরলের হাত থেকে রেহাই মিলবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সবার জন্য নয়। মূলত যাঁদের কোলেস্টেরলের মাত্রা জিনগত কারণে বেশি, যাঁদের সাধারণ ওষুধে কাজ হয় না, কিংবা যাঁদের হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের জন্য এটি কার্যকরী হতে পারে। তবে এর দাম কেমন হবে, সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে আসবে কি না, সে নিয়েও সংশয় রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পুলিশ না নেশাখোর? কলকাতা মেডিকেলে মদ্যপ অবস্থায় লুটোপুটি খাচ্ছেন ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্মী!

বিশিষ্ট এন্ডোক্রিনোলজিস্ট সুজয় ঘোষ জানিয়েছেন, “এই ইনজেকশন শরীরের জিনে পরিবর্তন এনে কোলেস্টেরল কমাবে, যা খুবই আশাব্যঞ্জক। তবে এখনও মানবদেহে পরীক্ষা হয়নি, তাই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।” অন্যদিকে, কার্ডিওলজিস্ট তুষারকান্তি পাত্রের মতে, “গবেষণা সফল হলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এটি বিপ্লব আনবে। তবে এটি কেবলমাত্র বিশেষ কিছু রোগীর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হবে, সবাই এই ইনজেকশন পাবেন না।” অর্থাৎ, এক শটে কোলেস্টেরলের সমস্যা মিটবে কি না, তা জানতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। তবে গবেষণা সফল হলে ভবিষ্যতে লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হতে পারেন, বিশেষ করে যাঁরা নিয়মিত ওষুধ খেতে চান না বা পারছেন না। এখন অপেক্ষা, এই নতুন থেরাপি কবে বাস্তবে আসবে এবং কতটা সফল হবে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles