উল্টোরথের দিন ঘরে ফেরার পালা জগন্নাথের! মাসির বাড়ি থেকে ফেরার পরও তিনদিন মন্দিরের বাইরেই থাকতে হয় জগন্নাথকে, কেন জানেন?

আজ, ৯ই জুলাই শনিবার। আজ অর্থাৎ আষাঢ় মাসের দশমী তিথিতে গুন্ডিচা মন্দির থেকে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ফের রথে চড়ে ফিরে আসার কথা জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রার। মাসি গুন্ডিচার বাড়িতে আটদিন কাটিয়ে ফের মন্দিরে ফিরে আসার উৎসবের নামই উল্টোরথ। এই উৎসবকে আবার ‘বহুদা যাত্রা’ও বলা হয়ে থাকে।
‘উৎকলখণ্ড’ এবং ‘দেউল তোলা’ নামক ওড়িশার প্রাচীন পুঁথিতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ইতিহাস রয়েছে। এই পুঁথিতে বলা হয়েছে যে এই রথযাত্রার প্রচলন হয়েছিল সত্যযুগে। সেই সময় আজকের ওড়িশার নাম ছিল মালবদেশ। সেই মালবদেশের অবন্তীনগরী রাজ্যে ইন্দ্রদ্যুম্ন নামে সূর্যবংশীয় এক পরম বিষ্ণুভক্ত রাজা ছিলেন। তিনিনি ভগবান বিষ্ণুর এই জগন্নাথরূপী মূর্তির রথযাত্রা শুরু করার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন।

শোনা যায়, মাসি গুন্ডিচা গুন্ডিচার বাড়ি থেকে ফেরার পরও পুরীর মূল মন্দিরে প্রবেশ করেন না প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা। তিন দিন রথ-সহই বাইরেই থাকে বিগ্রহ। কিন্তু কেন এমন নিয়ম?

জানা যায়, এই তিনদিন ধরে পালন করা হয় একাধিক অনুষ্ঠান। আর এই অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলেন স্বয়ং জগন্নাথ। বছরে একবারই মাসির বাড়ি যান জগন্নাথ। সঙ্গে থাকেন বলরাম ও সুভদ্রা। সেই কারণে তারা ফির মূল মন্দিরে ফিরে এলে ধূমধাম করে পালন করা হয় কিছু রীতি। এরপরই তিন বিগ্রহকে তোলা হয় মন্দিরের রত্নবেদীতে।

এই তিনদিন ধরে কী কী অনুষ্ঠান পালন করা হয়, আসুন দেখে নিই-

সোনাবেশ
একাদশ তিথিতে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা নানান সোনার গয়নার সাজে সেজে ওঠেন। পুনর্যাত্রার পর একাদশ তিথিতে পালিত হওয়া এই উৎসবের নাম সোনাবেশ।

অধরপনা
দ্বাদশীর সন্ধ্যায় এই উৎসব পালিত হয়। এই রীতি অনুযায়ী জগন্নাথ দেবকে বিশেষ শরবত নিবেদন করা হয়।

রসগোল্লা উৎসব
ত্রয়োদশীর দিন প্রভু জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে কয়েকশো হাঁড়ি রসগোল্লা নিবেদন করা হয় ভোগ হিসাবে। একেই বলে রসগোল্লা উৎসব।

নীলাদ্রিবিজয় উৎসব
সবশেষে নীলাদ্রিবিজয় উৎসব দিয়েই সমস্ত রীতিনীতি সমাপ্ত হয়। আর এরপরই নানান আচার মেনে প্রভু জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামকে মন্দিরের মূল রত্নবেদীতে অধিষ্ঠান করানো হয়।

RELATED Articles