‘মাছেভাতে বাঙালি’, এই প্রবাদকে আরও বেশি কিরে এবার মান্যতা দিল দুর্গাপুরের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হরেক রকমের মাছের স্বাদ পেল মৎস্যপ্রেমী বাঙালি।
এখনকার তরুণ প্রজন্ম যেন মাছের থেকে শতহস্ত দূরেই থাকে। ‘জাঙ্ক ফুড’ প্রিয় সেই তরুণ প্রজন্মকে মৎস্যমুখী করতেই এই অভিনব উদ্যোগ নিল ‘দুর্গাপুর ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’। আয়োজিত করা হল ‘মৎস্য মেলা’।
গতকাল, রবিবার ছুতির দিনে দুর্গাপুরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্পাত নগরীর হর্ষবর্ধন অ্যাভিনিউয়ের মর্ডান বয়েজ স্কুল ক্লাবের মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘মৎস্য মেলা’। এই মেলায় ছিল মোট ২৪টি স্টল। সেখানে রাখা নানান ধরণের মাছের রান্না করা সুস্বাদ্যু পদ। সমুদ্র, পুকুল, খাল, বিল, নানান জলের মাছের সম্ভার ছিল এদিনের এই মৎস্য মেলায়।
এই মৎস্য মেলায় কোকিলা, আমুদি, ভোলা, ভেটকি, পমফ্রেট, খয়রা, কার্তি, পারশে, কাজলি, বাছা, ট্যাংরা, শুটকি, রুই, কাতলা, মৃগেল ছাড়াও ছিল ইলিশের রকমারি পদ। এর সঙ্গে ছিলমুড়ি ঘণ্ট।

অতি স্বল্প মূল্যে ভাত কিনে প্লেটে রকমারি মাছ নিয়ে সেই মাছের স্বাদ নিতে মেলা শুরুর আগে থেকেই আট থেকে আশির লম্বা লাইন পড়ে যায়। মেলা প্রাঙ্গনেই প্লেট ভর্তি রকমারি মাছ নিয়ে বসে খেতে বসে পড়েন উৎসাহী মানুষরা।

এদিনের এই মেলার উদ্বোধন করেন দুর্গাপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও মেয়র অপূর্ব মুখোপাধ্যায়। মাছের এই বিপুল আয়োজন দেখে তিনিও হতবাক হয়ে যান। ডায়মন্ডহারবার ও পূর্ব মেদিনীপুর থেকে প্রায় ১ কুইন্টাল মাছ আনা হয় এদিন। আর মাছ রান্নার জন্যে ওড়িশা থেকে আনা হয়েছিল ১২ জনের একটি দল।
এই ‘মাছে ভাতে বাঙালি’র অন্যতম উদ্যোক্তা হলেন প্রাক্তন কাউন্সিলর পল্লব নাগ। এই বিষয়ে তিনি জানান, “এই প্রজন্মকে মাছ-মুখী করতেই এই উদ্যোগ। মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল নয়। মাছের তেল, কাঁটাতেও অজস্র পুষ্টিগুণ রয়েছে”। রকমারি মাছের স্বাদ নিতে আসানসোল, দুর্গাপুরের মানুষ প্রায় হামলে পড়ে এই মেলায়।
ভিডিও সৌজন্যেঃ সংবাদ প্রতিদিন





