দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বরাবরই সংবেদনশীল। অতীতে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা যেমন ছিল, তেমনই সময়ে সময়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও দেখা গিয়েছে। সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ও ঘটনার জেরে আবারও সেই সম্পর্কে উত্তেজনার সুর শোনা যাচ্ছে। সীমান্তের এপার-ওপার থেকে একের পর এক কড়া মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে, যা নিয়ে চিন্তিত কূটনৈতিক মহল।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্য ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। তিনি দাবি করেছেন, ভারত যদি আগের মতো বাংলাদেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের কথা ভাবে, তবে তা ভুল হবে। নাহিদের ভাষায়, ভারতের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল, তাই দিল্লিকে সাবধানে থাকতে হবে।
এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে ঢাকায় তরুণ রাজনীতিবিদ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনা। গত ১২ ডিসেম্বরের ওই হামলার পর থেকেই বাংলাদেশের একাংশ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কোনও প্রমাণ ছাড়াই ভারতের দিকে আঙুল তোলা শুরু হয়েছে। নাহিদ ইসলামও এই প্রসঙ্গে কড়া সুরে কথা বলেন। তাঁর অভিযোগ, ওসমান হাদির ঘটনার পরেও ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
নাহিদের বক্তব্যে থেমে থাকেননি এনসিপির অন্য নেতারাও। দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। তাঁর দাবি, হাসিনাসহ বাংলাদেশের গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে ঢাকার হাতে তুলে দিতে হবে। দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ভারত বাংলাদেশকে ফিলিস্তিন বানাতে চাইছে। এমনকি ভারত যদি বাংলাদেশের বিরোধীদের আশ্রয় দেয়, তাহলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও শোনা যায়।
আরও পড়ুনঃ RG Kar case : একজন নয়, আরও অনেকে জড়িত! ‘ডিএনএতেই প্রমাণ’—আরজি কর মামলায় সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তিলোত্তমার বাবা-মায়ের!
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যে ওসমান হাদিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা, তিনি নিজেই অতীতে চরম ভারত-বিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের বিকৃত মানচিত্র পোস্ট করেছিলেন, যেখানে ভারতের একাধিক অংশকে আলাদা করে দেখানো হয়। সেই ঘটনার পর ভারতবিরোধী সুর আরও জোরালো হয়েছে বাংলাদেশের কিছু ছাত্র ও তরুণ নেতাদের মধ্যে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—এই রাজনৈতিক ভাষ্য কি ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কঠিন পথে ঠেলে দেবে?





“আগে হিন্দু, তারপর বাঙালি…যে রক্ষা আমাদের রক্ষা করবে, আমি তাদের দলে” “আমি হিন্দুস্থান চাই” বাংলায় পদ্মফুলের উত্থানেই খুশি অভিজিৎ ভট্টাচার্য! বিজেপির সাফল্যের পর খুললেন মুখ! গায়কের মন্তব্যে তোলপাড় নেটদুনিয়া!