কলকাতার ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য শনিবারের সন্ধেটা যে এতটা হতাশার হয়ে উঠবে, তা কেউ ভাবেননি। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) এক ঝলক দেখার আশায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু উৎসবের আবহ খুব দ্রুত বদলে যায় অস্বস্তি, ক্ষোভ আর বিশৃঙ্খলায়। কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, কেন আগেভাগে তা সামাল দেওয়া গেল না—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশাসনের অন্দরমহলে।
জানা যায়, অনুষ্ঠানের মাত্র ২৩ মিনিটের মধ্যেই নিরাপত্তাজনিত কারণে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মেসি। অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের অতিরিক্ত উপস্থিতির জেরে সাধারণ দর্শকদের জন্য নির্ধারিত জায়গায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। বহু দর্শক অভিযোগ করেন, টিকিট কেটে প্রবেশ করলেও তাঁরা প্রিয় ফুটবলারকে ঠিকমতো দেখতেই পাননি। হতাশা দ্রুত রূপ নেয় ক্ষোভে, আর তারই ফল হিসেবে স্টেডিয়ামের একাংশে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠন করা হয় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। কমিটিতে রাখা হয় অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়, মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। তাঁদের দায়িত্ব ছিল, ঘটনার দিন কীভাবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছিল, কোথায় গাফিলতি রয়ে গেল এবং কার দায়িত্বে কী ত্রুটি ছিল—সব দিক খতিয়ে দেখা। কমিটি প্রাথমিকভাবে মনে করেছে, বিষয়টি শুধু একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং একাধিক স্তরে সমন্বয়ের অভাব ছিল।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এবার কড়া পদক্ষেপ। রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার-সহ পুলিশ ও প্রশাসনের তিন শীর্ষ কর্তার কাছে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে—কেন ওই দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গেল না, পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Bangladeshi Nahid Islam on India: “ভারতের সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল”—নাহিদ ইসলামের মন্তব্যে ফের উত্তপ্ত ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক!
এখানেই শেষ নয়, তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এক অফিসারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এক অবসরপ্রাপ্ত অফিসারকে যুবভারতীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এই ঘটনায় কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যুবভারতীর সেই সন্ধের বিশৃঙ্খলা শুধু একটি অনুষ্ঠানের ব্যর্থতা নয়, রাজ্যের ভাবমূর্তির সঙ্গেও জড়িয়ে—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে দিতে চাইছে নবান্ন। এখন দেখার, শোকজের জবাবে কী উঠে আসে এবং তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।





