RG Kar case : একজন নয়, আরও অনেকে জড়িত! ‘ডিএনএতেই প্রমাণ’—আরজি কর মামলায় সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তিলোত্তমার বাবা-মায়ের!

বিচারের পথে হাঁটতে হাঁটতে কতটা ক্লান্ত হয়ে পড়লে একজন মা বলতে পারেন—প্রয়োজনে আইন নিজের হাতেই তুলে নেব? আর কতটা অসহায় হলে একজন বাবা প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে? আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর সাজা ঘোষণার পরেও সেই প্রশ্নগুলিই আজ ফের উঠে এল নির্যাতিতার বাবা-মায়ের কণ্ঠে। তাঁদের দাবি, রায় হলেও ন্যায় এখনও অসম্পূর্ণ। আর সেই অপূর্ণতার ভারই যেন তাঁদের কথায়, চোখে-মুখে বারবার ফুটে উঠছে।

সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিলোত্তমার বাবা-মা। সেখানেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তাঁরা। নির্যাতিতার মা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মেয়ের মৃত্যুর পেছনের আসল সত্য এখনও আড়ালেই রয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “বিচার যদি না পাই, তবে ছিনিয়ে নেব।” এই বক্তব্যই মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কারণ, সাজাপ্রাপ্ত একজন থাকলেও, গোটা ঘটনায় যে আরও অনেক অজানা দিক রয়েছে—সেই বিশ্বাসেই অনড় পরিবারটি।

এর পরেই আরও বিস্ফোরক দাবি করেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় একমাত্র সাজাপ্রাপ্ত আসামী সঞ্জয় রায় ছাড়াও আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত। তিনি জানান, ডিএনএ রিপোর্টেই তার স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তাঁর দাবি, রিপোর্টে একজন মহিলার ডিএনএ এবং আরও ছয়জন পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গিয়েছে। “আমরা জানি, তাঁরা কারা। কিন্তু তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইয়ের। ওদেরই সেই জায়গায় পৌঁছতে হবে,” বলেন তিনি। এখানেই শেষ নয়—সিবিআইয়ের তদন্ত পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, শিয়ালদহ আদালতে যে সমস্ত প্রশ্নোত্তর ও পর্যবেক্ষণ উঠে আসে, সেগুলিকে সিবিআই গুরুত্বই দেয় না। তিনি বলেন, সাত মাস ধরে মামলা চলার পর বিষয়টি ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছে, মামলা গৃহীত হলেও এখনও শুনানি শুরু হয়নি। অথচ আদালতে দাঁড়িয়ে সিবিআই নিজেই স্বীকার করেছে, তারা কোনও ‘স্পেসিফিক ইনভেস্টিগেশন’ করেনি। কেন করেনি—এই প্রশ্নের জবাবই তিনি আদালতের সামনে চাইবেন বলে জানান।

আরও পড়ুনঃ প্রতীক্ষার অবসান, প্রকাশ্যে খসড়া ভোটার তালিকা, কারা রইলেন আর কারা বাদ পড়লেন, জেনে নিন এখনই

অন্যদিকে, মেয়ের মৃত্যুর রাত নিয়েও একের পর এক প্রশ্ন তুলে ধরেন নির্যাতিতার মা। তাঁর কথায়, মেয়ে রাত চারটে পর্যন্ত জেগে থাকত, হঠাৎ করে ডিউটিরত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়বে—এটা তিনি মানতে পারছেন না। সেই রাতে যাঁরা কর্তব্যরত ছিলেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। “আরজি করের মতো জায়গায় কেউ ঢুকে আমার মেয়েকে মেরে দিয়ে চলে যাবে, আর কেউ কিছু বুঝবে না—এটা অসম্ভব,” বলেন তিনি। মেয়ের চোখ দিয়ে জল নয়, রক্ত বেরিয়েছিল—এই কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন, “বিচার আমরা চাই। দরকার হলে কঠিন পথেই যাব।”

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles