মহম্মদ ইউনুস, নামটি এখন বিশেষ চর্চার মধ্যে। বাংলাদেশে পতন হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের। বাংলাদেশের কোটা বিরোধী আন্দোলনের ইতি ঘটে হাসিনা সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মধ্যে দিয়ে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। আপাতত তিনি ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন।
হাসিনা দেশ ছাড়ার পরই দেশের ক্ষমতা দখল করেছিল বাংলাদেশের সেনাবাহিনী। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা করেছিলেন সেনা প্রধান। সেনা শাসন মানতে চায় নি ছাত্র আন্দোলনকারীরা। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয়। গতকাল, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন তিনি।
এরই মধ্যে ইউনুসকে নিয়ে চর্চার অন্ত নেই। সম্প্রতি ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বেশ বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের এক সংবাদমাধ্যমের দাবী, মহম্মদ ইউনুস বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডকে বিলুপ্ত করে সেই বোর্ডের সঙ্গে জড়িতদের ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে গ্রামে গিয়ে কৃষিকাজ করা উচিত। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম যমুনা টিভির তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই একটি পোস্ট করা হয়েছিল। আর এরপরই শুরু হয়ে যায় তুমুল বিতর্ক।

এই পোস্ট নিয়ে কাঁটাছেঁড়া শুরু হতেই সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করে ফ্যাক্ট ওয়াচ টিম। আর সেই টিম পরীক্ষানিরীক্ষা করে জানায়, যমুনা টিভির নামে যে পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করছে, তা আসলে ভুয়ো। শুধু তাই-ই নয়, যমুনা টিভির অফিশিয়াল পেজ থেকেই সেই পোস্টটি শেয়ার করে জানানো হয় যে তাদের নাম করে ভুয়ো এমন খবর ছড়ানো হচ্ছে।

তবে কে বা কারা এই ভুয়ো পোস্টটি শেয়ার করেছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে ভুয়ো পোস্টের ফন্টের সঙ্গে যমুনা টিভির ফন্টের যে পার্থক্য রয়েছে, তা বেশ ভালোভাবেই লক্ষ্যনীয়। বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স ও ক্রিকেট বোর্ডের উপর ক্ষোভ প্রকাশ স্বরূপ ব্যাঙ্গাত্মক অর্থে এই পোস্ট করা হয়েছে। ফ্যাক্ট ওয়াচের তরফে এই পোস্টটিকে ‘স্যাটায়ার’ বলে গণ্য করা হয়েছে।
ক্রিকেট নিয়ে আসলে মহম্মদ ইউনুস যা বলেছিলেন, তা হল, “ক্রিকেট বাংলাদেশের তরুণদের মূল্যবান সময় নষ্ট ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় বাধা। এইজন্য আমি খুব দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে বিসিবি ও ক্রিকেটকে এদেশ থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করব”। যদিও তাঁর এই মন্তব্যের জেরেও যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।





