১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হাসিনাকে গদিচ্যুত করার ‘প্ল্যান’! ‘টাকার জন্যই সরকার বিরোধী আন্দোলন পরিচালনা করেছি’, বিস্ফোরক দাবী বাংলাদেশি ছাত্রের

বাংলদেশের কোটা বিরোধী আন্দোলনের জেরে সেদেশে এক বিপ্লব ঘটেছে বলা যায়। প্রাণ গিয়েছে শ’য়ে শ’য়ে মানুষের। রক্ত দিয়েছেন পড়ুয়ারা। কোটা সংস্কার তুলে দেওয়ার লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছে কত কত মানুষের। এই কোটা বিরোধী আন্দোলন শেষ হয় হাসিনা সরকারের পতনের মধ্যে দিয়ে। শেখ হাসিনার পতনের জন্যই কী আন্দোলনের তীব্রতা এতটা ভয়ঙ্কর ছিল? সেই প্রশ্ন যখন ইতিউতি উঁকি দিচ্ছে, সেই সময় আন্দোলন পরিচালনা করা এক ছাত্রই এক বিস্ফোরক দাবী করলেন।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। গতকাল, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে গঠন হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মহম্মদ ইউনুস। আর এরপরই ছাত্র আন্দোলন পরিচালনা করা এক পড়ুয়া বিস্ফোরক দাবী করেন যে টাকার জন্যই নাকি তারা সরকার বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।

চৌধুরী সিয়াম সীমন্ত নামের এক ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট করা হয়েছে। আর সেই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল হইচই পড়েছে। ওই প্রোফাইলের মালিক জানাচ্ছেন, তিনি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর তা যে সত্যি, তা তাঁর প্রোফাইল ঘাঁটলেই বোঝা যায়। তবে ওই যুবক দাবী করেছেন, এই ছাত্র আন্দোলনের মূল লক্ষ্যই ছিল সরকার বিরোধী দিকে নিয়ে যাওয়া।

ওই যুবকের দাবী, সাংবাদিক বিভাগের আসিফ, ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজের স্যারের ছেলে অর্ণব, চিটাগং এর ইমতিয়াজ ও শাজ্জাদ নামের যুবকরা মিলে একটি দল ছিল তারা। যুবকের কথায়, ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এই ছাত্র আন্দোলন পরিচালনা করেছিলেন তারা। তিনি এও জানিয়েছেন, এরকম অনেক দলই এমন টাকা পেয়েছে আন্দোলন পরিচালনার জন্য।

ছাত্রের কথায়, তিনি ও তাঁর পরিবার বিএনপির সমর্থক। যদিও তারা এই টাকা বিএনপির তরফেই পেয়েছেন কী না, সেকথা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন নি ওই যুবক। তবে তাঁর পোস্ট দেখে এমনটাই ধারণা হয়েছে সকলের।  

এখন কেন একথা জানাচ্ছেন ওই যুবক?

ওই যুবকের কথায়, টাকা ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সমস্যা হয়েছে তাদের মধ্যে। সেই কারণেই নাকি তিনি এই পোস্ট করছেন। তিনি লেখেন, “আমি এটা প্রকাশ করলাম কারণ টাকা সমান ভাগে ভাগ করার কথা থাকলেও আমাদের প্রধান নেতা আসিফ আমাদের ঠকায়। আসিফের বাসা উত্তরা। প্রত্যেক আন্দোলনে যাওয়ার আগে আমার কল লিস্ট চেক করলে দেখবেন গুরুর উপদেশেই আমরা এগিয়েছি। এবং আমার কল লিস্ট চেক করলে ফরিদপুরে এবং চিটাগাং এর ইমতিয়াজ নেতৃত্বের প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমার কিছু হলে এরা প্রত্যেকে দায়ি অন্য কেউ না”। একই সঙ্গে ওই যুবক এও লিখেছেন, চিটাগংয়ে ছাত্রলিগের হত্যা থেকে শুরু করে মিরপুরের নানান জায়গায় আগুন লাগানোর ঘটনায় যুক্ত ছিলেন তিনি ও তাঁর টিম।

Bangladesh, Hasina Government, quota movement, 15 lakh, youth, claim, social media post

এই পোস্ট শেয়ার হতেই তা নিয়ে তুমুল হইচই পড়ে গিয়েছে। একাংশের প্রশ্ন, তাহলে কী হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্যই পরিকল্পনা করে এই ছাত্র আন্দোলন করা হয়েছিল? ছাত্র আন্দোলন কী শুধুই চোখে ধুলো দেওয়া? এর আসল উদ্দেশ্য ছিল শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা? আবার অন্য এক অংশের দাবী, এই পোস্টটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। সংশ্লিষ্ট ছাত্রকে অপহরণ করে ছাত্রলিগের তরফে তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছে এই পোস্টটি করার জন্য। প্রশাসনের তরফে এই দাবীর সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। তবে বাংলাদেশের নেটিজেনদের অনেকেই দাবী করেছেন, ছাত্রলিগের তরফেই এমন পোস্ট করতে বাধ্য করা হয়েছে ওই যুবককে।

RELATED Articles