বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন, শেষমেশ সেই গুরুদেবের হাত ধরেই পালাল স্ত্রী, বউকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন শফিকুল

বিশ্বাস করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন গুরুদেবকে। কিন্তু সেই গুরুদেবের হাত ধরেই চম্পট দিল স্ত্রী। বাড়িতে তিন সন্তানকে রেখেই গুরুদেবের হাত ধরে পালিয়েছে শফিকুল ইসলামের স্ত্রী। এখন বউকে খুঁজতে গিয়ে পাগলের মতো অবস্থা হয়েছে তাঁর। এই ঘটনার জেরে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, এক মাস আগে ময়মনসিংহের টিকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় হয় হীরণপুর গ্রামের ফকির ফজলুল হক তালুকদার ওরফে খেতা শাহ’র। বয়স ৬০। সেই সময় ওই ফকির ভক্ত শফিকুলের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।

সেই ফকির বাড়িতে আসার পর থেকেই তাঁর সাহচর্যে লেগে জাকন শফিকুলের স্ত্রী। ফকিরকে সেবা করা, ভালোমন্দ রান্না করে খাওয়ানো সবই করতেন রাবিয়া খাতুন। কিন্তু ধীরে ধীরে যে তাদের দু’জনের মধ্যে অন্যরকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পান নি শফিকুল। ওই গুরুদেব ও শফিকুলের স্ত্রীয়ের মধ্যে বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা।

শফিকুলের কথায়, গত ২২শে জুন রাবিয়াকে বাপের বাড়ি যান ওই ফকির খেতা শাহ। কিন্তু এরপর আর দু’জনে ফেরেনি। নানান জায়গায় তাদের খোঁজ করা হলেও মেলেনি কোনও হদিশ। দু’জনের ফোন বন্ধ। ওই গুরুদেবের সঙ্গেই পালিয়েছে রাবিয়া, এমনটাই মনে করছেন শফিকুল। স্ত্রী ছেড়ে চলে যাওয়ায় বেশ ভেঙে পড়েছেন তিনি।

এক সংবাদমাধ্যমে শফিকুল জানান, “আমি যাকে গুরু বলে বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলাম, সে যে প্রতারক হবে তা কখনোই আমার মাথায় আসেনি। আমার স্ত্রীকে নানাভাবে ও ভুল বুঝিয়েছে আর বর্তমানে কোথাও গিয়ে লুকিয়ে পড়েছে বলে মনে হয়। এটাও হতে পারে যে, আমার স্ত্রী হয়তো কোন বিপদের মধ্যে পড়েছে। বাড়িতে তিন সন্তানকে সামলানো মুশকিল হয়ে পড়েছে। তারা সর্বদা মায়ের কথা জিজ্ঞাসা করলেও আমি কোনো উত্তর দিতে পারছি না। এমনকি বাপের বাড়িতে যাওয়ার সময় রাবিয়া আমার থেকে ৯০ হাজার টাকা নিয়েছিল”।

রাবিয়াকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশে অভিযোগ জানান শফিকুল। ওই ভণ্ড গুরুদেবের নামে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। যাওয়ার সময় তাঁর স্ত্রী ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন শফিকুল। তবে এখনও পর্যন্ত গুরুদেব বা শফিকুলের স্ত্রী, কারোরই কোনও খোঁজ মেলেনি।

RELATED Articles