মাওবাদীদের নাম করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে তোলা আদায়ের চেষ্টা। ঘটনায় অভিযুক্ত খোদ পুলিশকর্মীই। ঝাড়গ্রাম থেকে গ্রেফতার এক হোমগার্ড-সহ ৬ জন। ধৃতদের থেকে নগদ টাকা, মোবাইল, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ধৃতদের মধ্যে অন্যরত্ম জামবনি থানার হোমগার্ড বাহাদুর মান্ডি।
বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছে যে ঝাড়গ্রামের একদা মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় ফের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। মাওবাদীদের নাম করে হুমকির চিঠি দেওয়া, টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের কাছে এই ইয়ে অভিযোগও দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে জামবনি থানার হোমগার্ড বাহাদুর মান্ডি এই ঘটনার মূল চক্রী।
আজ, শনিবার সকালে মাওবাদীদের নামে পোস্টার লাগানো হচ্ছিল এলাকায়। সেই সময়ই একেবারে হাতেনাতে ধরা পড়ে বাহাদুর। বাহাদুর ছাড়াও আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরা হল মলয় কর্মকার, শঙ্কর মণ্ডল, বাবুলাল দাস, মহেন্দ্র হাঁসদা, ও বাবলু দলই।
এপ্রিল মাস এবং তার আগে এলাকায় যেসব পোস্টার দেওয়া হয়েছিল তার দিন পনেরো আগে বিনপুর থানা এলাকার একটি গ্রামীণ হাটে মদ-মাংসের আয়োজন করে বাকি ধৃতদের নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়। বাইকে বা সাইকেলে পোস্টারগুলি মূলত বিনপুর থানা এলাকার নানান গ্রামে সাঁটানো হয়েছিল। মাওবাদীদের নাম করে বন্ধের ডাক দেওয়া হয় বলেও খবর। এলাকায় তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এভাবে একজনের কাছ থেকে ৩৫ হাজার টাকাও তুলেছিল তারা। আজ সেই টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, ধৃত ছ’জনের মধ্যে পাঁচ জনই এই কাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এদের মধ্যে শিলদার বাসিন্দা মলয় কর্মকার ভুয়ো স্ট্যাম্প তৈরি করে হাজার টাকা পায়। এদিন পুলিশ ধৃতদের থেকে একটি দেশী বন্দুক, স্ট্যাম্প, ৩৫ হাজার টাকা, একটি মোবাইল উদ্ধার করেছে। মোবাইলের সিম বদলে এরা মানুষকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়ার কাজ করত। আজই ধৃতদের ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হয়।
ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার অরিজিৎ সিনহা এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, “এরা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা তুলতে চেয়েছিল। হুমকি চিঠি, ফোন করত। একজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছিল। আমরা পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা উদ্ধার করেছি। আরও কয়েকজন আছে, তাদেরও আমরা খুব শিগগিরই গ্রেফতার করব”।





