বেলডাঙা যেন আবার অচেনা হয়ে উঠছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের আশঙ্কা এবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। একের পর এক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। শুক্রবারের অশান্তির রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালে ফের ক্ষোভ উগরে দিলেন স্থানীয় মানুষ। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, যেখানে স্বাভাবিক জীবন কার্যত থমকে যায়।
শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বড়ুয়া মোড়ে হঠাৎই জমায়েত শুরু হয়। প্রথমে বিক্ষোভ, তারপর ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় সরাসরি অবরোধে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর বসে পড়েন স্থানীয়রা। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দূরদূরান্তে দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রাক, বাস, ছোট গাড়ি। কোথাও কোথাও দেখা যায় চরম উত্তেজনা, আবার কোথাও ক্ষুব্ধ মানুষের মুখে শুধুই আতঙ্ক আর প্রশ্ন—কেন বারবার পরিযায়ীদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটছে?
বিক্ষোভকারীদের দাবি, শুক্রবার বিহারের ছাপরা এলাকায় কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিককে বাংলাদেশি সন্দেহে হেনস্তা করা হয়। সেই খবর এলাকায় পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেকে। অভিযোগ, শুধু রাস্তা অবরোধেই থামেনি পরিস্থিতি। বিক্ষোভের মাঝে ভাঙচুর করা হয় লেভেল ক্রসিং। এর জেরে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়। আটকে পড়ে একাধিক ট্রেন। এমনকি একটি অ্যাম্বুল্যান্সও অবরোধের মাঝে আটকে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
চোখের সামনে এই তাণ্ডব চললেও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকলেও প্রথমদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তেমন সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া হয়নি। ভাঙচুরের শিকার হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুনঃ Vande Bharat Sleeper Train Fare: বাংলার রেলযাত্রায় বড় চমক! আজ থেকে ছুটছে বন্দে ভারত স্লিপার— কোন রুটে কত ভাড়া?
এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদে পাঠানো হচ্ছে আরপিএফ ও আরপিএসএফ বাহিনী। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। তবে স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন বারবার ঘটছে? বেলডাঙার রাজপথে শনিবারের এই ছবি শুধু যানজট বা ভাঙচুরের গল্প নয়, এর আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ক্ষোভ, ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতার গভীর প্রশ্ন।






