হঠাৎই এমন সিদ্ধান্ত নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ? লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দাস ওরফে ববিকে দল থেকে বরখাস্ত করল গেরুয়া শিবির। ঠিক কী কারণে ঘটল এমন ঘটনা? যদিও অভিজিৎবাবুর দাবী, তিনি দলের তরফে কোনও চিঠি পান নি।
চব্বিশের লোকসভা নির্বাচন ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন অভিজিৎ দাস। কিন্তু জিততে পারেন নি। সেই নেতাকেই এবার বরখাস্ত করা হয়েছে বলে খবর। এই নিয়ে তাঁকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “দলীয় শৃঙ্খলা না মানার জন্য ওনাকে বরখাস্ত করা হয়েছে”। দলের নির্দেশ, চিঠি পাওয়ার পর জানাতে হবে, কী কারণে তিনি দল বিরোধী কাজ করেছেন?
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
লোকসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে নানান অশান্তির ঘটনা শোনা যাচ্ছে। নানান জায়গায় আক্রান্ত বিজেপি কর্মীরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য রাজ্যে এসেছে বিজেপির চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। গতকাল, মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে ওই দল। এরপর তারা যাচ্ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের আলতাবেড়িয়ায়।
অভিযোগ, সেই সময় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরাই। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা। তাদের অভিযোগ, ভোটের পর তাদের উপর লাগাতার আক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয় নেতারাই তাদের পাশে নেই। এই বিক্ষুব্ধরা সকলেই অভিজিৎ দাসের অনুগামী বলে জানা যায়। তাঁদের অভিযোগ, ভোট হিংসার শিকার হলেও জেলা সভাপতি অভিজিৎ সর্দার চক্রান্ত করে তাঁদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করতে দেননি। সেই কারণে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখান তারা।
এই ক্ষোভের প্রেক্ষিতেই এবার অভিজিৎ দাসকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিল দল। তাঁকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিজিতের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার পাঠানো দলকে হেনস্থা করা, দলীয় দফতরে তালা লাগানো, ভোটে পরবর্তী হামলায় দলের বৈঠকে যেতে না দেওয়া। সেই কারণেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁকে, এমনটাই খবর। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাঁকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে গেরুয়া শিবির।





