রাজ্যের প্রশাসনিক বৈঠকগুলো বেআইনি কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে? এমন প্রশ্নই তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কারণ এক স্থায়ী সমিতির সভায় ডেকে বিরোধী দলনেত্রীকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিডিও ব্লকের মধ্যেই বিজেপি নেত্রীকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। যদিও এই ঘটনায় দায় সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে ঘাসফুল শিবিরের তরফে।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুরের কেশিয়াড়িতে। কেশিয়াড়ির পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেত্রী হলেন মৌমিতা সিংহ। জানা গিয়েছে, গতকাল, মঙ্গলবার পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয় বিজেপি নেত্রী মৌমিতা সিংহকে। তিনি সেই বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য উপস্থিত হন পঞ্চায়েত সমিতির কনফারেন্স হলে।
কিন্তু অভিযোগ, তিনি সেখানে পৌঁছলেই তাঁর উপর চড়াও হন তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য তথা মহিলা তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কল্পনা শিট। তৃণমূল নেত্রী ও পঞ্চায়েত সমিতির অন্যান্য কর্মদক্ষরা মিলে বিজেপি নেত্রীকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। আক্রান্ত বিজেপি নেত্রী বিডিওর দ্বারস্থও হন কিন্তু কোনও সাহায্য পান নি বলে দাবী। সেখানেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিজেপি নেত্রী।
গণ্ডগোলের খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছয় পুলিশ। অন্যান্য বিজেপি নেতারা গিয়ে উদ্ধার করেন বিজেপি নেত্রীকে। তারাই আক্রান্ত মৌমিতা সিংহকে কেশিয়াড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন গুলো কি অরাজকতা আর বেআইনি কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হলো? শ্রীমতি মৌমিতা সিংহ; পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ি পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী নেত্রী। কেশিয়াড়ির ব্লক অফিসের সভা কক্ষে অর্থ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন “স্থায়ী সমিতির” এক সাধারণ সভায় যোগদানের জন্য ওনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। শ্রীমতি মৌমিতা সিংহ সভায় অংশ নেওয়ার জন্য সেখানে গেলে ব্লক সভা কক্ষের ভিতরে তৃণমূলের সদস্যরা তাঁকে মারধর করে। কেশিয়াড়ির বিডিও নির্বাচিত বিরোধী সদস্যাকে ব্লক অফিসে আমন্ত্রণ জানালেন অথচ তাকে নিরাপত্তা দিতে পারলেন না, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে দিলেন না”?
বিডিওর দিকে আঙুল তুলে শুভেন্দুর দাবী, “বিরোধী সদস্যদের মারধর করার জন্য কেশিয়াড়ির এই বিডিও তৃণমূলের নেতাদের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই ঘটনা গণতন্ত্রের কলঙ্ক এবং পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন ও শাসক দলের মধ্যে নোংরা যোগসাজশের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি”।
অন্যদিকে, এই ঘটনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য তথা মহিলা তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কল্পনা শিট। তাঁর কথায়, “কিছুই হয়নি। নাটক করছে এসব। লোকসভা ভোটে আমরা যে আসন বলেছিলাম, সেই আসন আমরা পেয়েছি। সন্দেশখালিতেও আপনারা দেখেছেন মানুষ কার পক্ষে রায় দিয়েছে। কেশিয়ারিতে ওরা কিছু খুঁজে পাচ্ছে না, তাই এসব করছে”।






