West Bengal: লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে তৃণমূলকে ভোট দিতে গেলে স্ত্রীদের ঘরে বন্দি করে রাখুন”— বিজেপি নেতার মন্তব্যে তপ্ত রাজনীতি, মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে বড় বিতর্ক বাংলাজুড়ে!

নির্বাচনের মুখে বাংলার রাজনীতিতে ফের উত্তাপ। একের পর এক সভা, পাল্টা সভা, তীব্র বক্তব্যে সরগরম রাজ্য। ভোট যত এগোচ্ছে, ততই রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে উঠে আসছে বিতর্কিত মন্তব্য। বিশেষ করে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির টানাপোড়েন এখন স্পষ্ট। সেই আবহেই পশ্চিম মেদিনীপুরের এক জনসভা থেকে এমন এক মন্তব্য উঠে এল, যা মুহূর্তে শোরগোল ফেলে দিয়েছে গোটা এলাকায়।

শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের কলাইকুন্ডু মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল বিজেপির ‘সংকল্প জনসভা’। ওই সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর বক্তৃতার আগেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে ওঠেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্ত। শুরুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখলেও, এক সময় তাঁর মন্তব্যের সুর বদলে যায় এবং সেখান থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।

সভামঞ্চ থেকে কালীপদ সেনগুপ্ত বলেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প নেওয়ার পরও যেসব মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিতে চাইছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিবারের পুরুষদের ভূমিকা নেওয়া উচিত। তিনি সরাসরি স্বামীদের উদ্দেশে বলেন, ভোটের দিন যেন তাঁরা স্ত্রীদের ঘরে বন্দি করে রাখেন, যাতে তাঁরা তৃণমূলকে ভোট দিতে না পারেন। বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের পরই সভাস্থল জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

এই বক্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। কারণ, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প বাংলার মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মহিলা ভোটব্যাঙ্ক যে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় শক্তি, তা রাজনৈতিক মহলে স্বীকৃত। এই প্রকল্প ঘিরেই বহু নির্বাচনী সমীকরণ গড়ে উঠেছে। বিজেপিও একাধিকবার জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে তারা লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করবে না, বরং ভাতার অঙ্ক বাড়ানো হবে। সেই প্রেক্ষাপটে একজন শীর্ষস্থানীয় নেতার এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপির অবস্থান নিয়েও।

আরও পড়ুনঃ T20 World Cup : আইপিএল ‘অপমান’-এর পালটা জবাব? ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ, শুরু কূটনৈতিক ক্রিকেট রাজনীতি!

এদিকে, এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে। মহিলাদের স্বাধীনতা, ভোটাধিকার এবং সম্মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের আগে এমন মন্তব্য বিজেপির জন্য উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে। এখন দেখার, এই বিতর্ক বাংলার ভোটের সমীকরণে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।

RELATED Articles