বাংলাদেশে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস ঘটনা পুরো দেশকে শোকে মেতে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় এবং ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে। শরিয়তপুরে এক ব্যবসায়ী খোকন দাসকে হত্যার ঘটনা সনাতন সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় এবার শোনাতে চেয়েছে তাদের কণ্ঠস্বর, যাতে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড আর কখনও না ঘটে।
ঘটনার সূচনা হয়েছিল ৩১ ডিসেম্বর। খোকন দাস রাতে অটো নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতী তার অটো ঘিরে ধরে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে খোকনের শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপ মারা হয়। আহত অবস্থায় তিনি পুকুরে লাফ দেন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে শরিয়তপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জানুয়ারি সকালে তার মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানববন্ধন করেছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট (National Hindu Grand Alliance)। সেখানে বিভিন্ন পেশার ও শ্রেণির হিন্দুরা যোগ দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের প্রতিবাদ জানায়। মহাজোটের শরিয়তপুর জেলা সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র ব্যাপারী জানান, “দেশব্যাপী সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, লুটপাট ও নানা ধরনের নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”
পুলিশ জানিয়েছে, খোকনের হত্যাকাণ্ডের মামলায় তিনজনকে আসামি করা হয়েছে, যারা হলেন সোহাগ খান, রাব্বি মোল্লা। তবে এখনও তাদের কারোই ধরতে পারেনি। পুলিশ অভিযুক্তদের দ্রুত ধরার জন্য বিশেষ দল গঠন করেছে এবং তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। খোকনের মৃত্যুর পরে এই মামলায় হত্যা ধারা যোগ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ West Bengal: লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে তৃণমূলকে ভোট দিতে গেলে স্ত্রীদের ঘরে বন্দি করে রাখুন”— বিজেপি নেতার মন্তব্যে তপ্ত রাজনীতি, মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে বড় বিতর্ক বাংলাজুড়ে!
খোকন দাসের মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, এটি একটি সম্প্রদায়কে সচেতন করেছে। তিন সন্তান ও পরিবারের জন্য এই শূন্যতা অসীম। স্থানীয় ব্যবসায়ী হিসেবে তার সুনাম ছিল, এবং তার হত্যার ঘটনা শুধু ক্ষোভ নয়, এটি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগও সৃষ্টি করেছে। এখন স্থানীয় সমাজ থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন অংশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও ন্যায়ের দাবি।





