দিল্লির রাজনীতি বরাবরই উত্তাল এবং পরিবর্তনশীল। সেখানে ক্ষমতায় আসা বা ক্ষমতা হারানো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য কখনো সহজ নয়। গত কয়েক বছর ধরে আম আদমি পার্টি (AAP) দিল্লির রাজনীতির দৃশ্যপটে এক শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে এসেছে। অন্যদিকে, বিজেপি দিল্লিতে পুনরায় নিজেদের শক্তি বাড়ানোর জন্য কার্যকরভাবে প্রচার চালাচ্ছে। এর মধ্যে, আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল দিল্লির রাজনৈতিক মহলে বেশ গুরুত্ব নিয়ে এসেছে, যেখানে একাধিক বিষয় নতুন রাজনৈতিক কৌশল তৈরি করতে সহায়তা করেছে।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লির বিজেপি দফতরে বাড়ছে ভিড়। পোস্টাল ব্যালটের গণনা শুরু হওয়ার পর থেকে বিজেপির এগিয়ে চলার খবর আসতে থাকে, যা রাজনৈতিক মহলে এক নতুন পালাবদলের ইঙ্গিত দেয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া গণনার পরে দেখা যায়, বিজেপি ৪০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অপরদিকে, আম আদমি পার্টি (AAP) কেবল ২৮টি আসনে এগিয়ে ছিল। তবে, নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই প্রাথমিক ট্রেন্ড যদি বজায় থাকে, তাহলে দিল্লিতে বড় পরিবর্তন হতে পারে।
একাধিক বুথ ফেরত সমীক্ষার ভিত্তিতে, দিল্লিতে বিজেপির সরকার গড়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। যদিও গণনা শেষ হতে এখনো অনেক সময় বাকি, কিন্তু সকাল থেকেই বিজেপি যে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে, তা একেবারে স্পষ্ট। বিশেষ করে, দিল্লির একাধিক বড় মুখও পিছিয়ে পড়েছেন। নয়া দিল্লি আসনে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরীবাল পিছিয়ে রয়েছেন। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে আরও তার দলের বিশিষ্ট নেতাদের পিছিয়ে যাওয়ার খবর এসেছে, যা বিজেপির সামনে ক্ষমতার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করেছে।
অপরদিকে, সমীক্ষায় যে বিপুল প্রচারে বিজেপি একটানা দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে, তাতে একাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন, এর পেছনে দিল্লির লেফট্যানেন্ট গভর্নরের হস্তক্ষেপ এবং কেজরীবালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ইস্যু কাজ করেছে। এই মুহূর্তে, দিল্লির মানুষ কাদের সরকারের নেতৃত্ব দেখতে চায়, তা নিয়ে কিছুটা সময়ের অপেক্ষা প্রয়োজন। সিসোদিয়া ও কেজিরিওয়ালের বিরুদ্ধে আবগারি মামলায় কারাবাসের পর বিজেপি যে এই বিষয়ের ওপর প্রচার চালিয়েছে, তা যথেষ্ট কার্যকরী হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ বাঁকুড়ায় মন্ত্রীর অপমান, ক্ষোভে ক্রীড়া প্রতিযোগিতর মঞ্চ ছাড়লেন মন্ত্রী!
সবশেষে, নির্বাচনী ফলাফলের দিকে সবার নজর। যদিও গণনা এখনও চলছে, তবে যেভাবে বিজেপি প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে রয়েছে এবং আপ-এর বেশ কিছু বড় মুখ পিছিয়ে পড়েছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন দেখা যাবে, দিল্লির মানুষ সত্যিই কি পালাবদল দেখতে চান, নাকি আপ আবারও ক্ষমতায় ফিরবে।






