লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়াতে হবে, এমনটাই দাবী উঠল এবার। আর এই দাবী কোনও তৃণমূল নেতা বা সাধারণ মানুষের নয়, বরং এই দাবী তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিলেন খোদ বিজেপি সাংসদ। হঠাৎ কেন এমন চিঠি, তা নিয়ে যখন প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে, সেই সময় ফের দলবদলের জল্পনাও তৈরি হল।
একুশের বিধানসভা নির্বচনের সময় রাজ্যের মহিলাদের জন্য এই লক্ষ্মী ভাণ্ডার প্রকল্প শুরু করে রাজ্য সরকার। বর্তমানে এই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলারা মাসে ১০০০ টাকা ও তফশিলি জাতির মহিলার মাসে ১২০০ তালা করে পান। এই প্রকল্প নিয়ে বিজেপির তরফে নানান তোপ দাগা হয়েছে রাজ্য সরকারকে। কিন্তু এবার সেই বিজেপি সাংসদই এই প্রকল্পের টাকা বাড়ানোর আবেদন জানালেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেওয়া চিঠি সারবত্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরে বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, “আমি মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছি, পশ্চিমবাংলার মহিলাদের ১০০০ টাকা ও ১২০০ টাকা করে দিয়ে যে ভোটব্যাঙ্ক আপনি তৈরি করছেন, তাতে কিন্তু কিছু হয় না। ন্যূনতম ২ হাজার টাকা করে দিতে হয়। তাতে অন্তত তাঁদের হাতখরচটা হবে”।
এদিকে আবার প্রশাসনিক মহলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়ানো হবে। ১০০০ টাকাটা করা হবে ১৫০০ টাকা ও ১৫০০ টাকাটা করা হবে ১৭০০ টাকা। এরই মধ্যে এবার বিজেপি সাংসদ নিজের আবেদন জানালেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনিতেই দাবী করে থাকেন যে রাজ্যের ভাঁড়ারে টান রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটা আবেদন করে আসলে বিজেপি মমতা সরকারের উপর চাপ বাড়াতে চাইছে। যদি প্রকল্পের টাকা বাড়ালে ভাঁড়ারে আরও টান পড়ে, তাহলে তৃণমূল কোণঠাসা হবে। সেই কারণেই এমন চিঠি। যদিও এমনটা করতে গিয়ে পক্ষান্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকল্পকেই স্বীকৃতি দিল বিজেপি। কোথাও গিয়ে বিজেপি সাংসদ স্বীকার করেই নিলেন যে সত্যিই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মহিলাদের মধ্যে ঠিক কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের!
এদিকে আবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতোই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আনতে চলেছে বিজেপি। সেই প্রকল্পে আবার মহিলাদের মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়া হবে। কীভাবে সেই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে, সেই পাঠও দিচ্ছে বিজেপি।
আর এই নিয়েই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বললেন, “ওর আগে বলুক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভান্ডার চালু করার আগে ওরা কেন কিছু চালু করেনি? নকল করছে ওরা। তার আবার বড় বড় কথা। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর উচিত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দেওয়া, বাংলার বকেয়া টাকাটা আগে দিক”।





