‘যোগ্যতম একমাত্র শুভেন্দুই…’, বঙ্গ বিজেপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে শুভেন্দুকেই সকলের থেকে এগিয়ে রাখলেন তথাগত রায়!

একুশের নির্বাচনের সময় তাঁর কামিনী কাঞ্চন মন্তব্যই হোক বা CAA-তে নাগরিকত্ব দেওয়ার আগে পুরুষদের গোপনাঙ্গ পরীক্ষার পরামর্শ- এমন নানান মন্তব্যের জেরে বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু তবুও এমন মন্তব্য করার পথ থেকে পিছু হটেন নি। বিজেপির ভরাডুবির জন্য আবার দলের কিছু নেতাদেরই দুষেছিলেন। আর ফের তাঁর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জেরে বেশ চর্চা শুরু হল। বঙ্গ বিজেপিকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে দিলীপ ঘোষ বা সুকান্ত মজুমদার নন, বরং শুভেন্দু অধিকারীকেই যোগ্যতম বলে মনে করেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়।

আজ, বৃহস্পতিবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করলেন তিনি। এই তথাগত রায়ই একসময় বলেছিলেন, তৃণমূলের পচা জিনিস বিজেপি কাজে লাগিয়েছে। আর এর জেরেই বিজেপির ভরাডুবি হয়েছে নির্বাচনে। সেই পচা জিনিসের তালিকায় যে শুভেন্দু অধিকারীও ছিলেন, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু এবার আচমকাই শুভেন্দুর হয়েই ব্যাট ধরলেন তথাগত।  

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তথাগত রায় লেখেন, “প্রথম, শুভেন্দু স্বয়ং মমতাকে হারিয়েছেন। ফলে মমতা কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হতে বাধ্য হয়েছেন। দ্বিতীয়, শুভেন্দুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সুকান্ত এবং দিলীপের চাইতে অনেক দীর্ঘ। ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলন দিয়ে তাঁর হাতেখড়ি। তৃতীয়, শুভেন্দু যেরকম স্পষ্ট ভাষায় মমতাকে চোর বলেন, হিন্দু একীকরণের কথা বলেন, এবং রাজ্য চষে বেড়ান, সেরকম অন্য কেউই পারেন না বা করেন না। সংস্কারের উপর একজন খুব জোর দিয়েছেন। সংস্কার ঠিকই আছে, কিন্তু ব্যবহারিক রাজনীতিতে এর স্থান সীমিত। সুতরাং, দোষগুণ বিচার করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপিকে নেতৃত্ব দেবার জন্য যোগ্যতর আর কেউ নেই”।

বর্তমানে বিজেপির রাজ্য সভাপতির পদ সামলাচ্ছেন বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি আবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও। এই পরিস্থিতিতে তাঁর দায়িত্ব কমাতে কোনও রদবদলের সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিজেপি। সেই প্রেক্ষিতেই এমন পোস্ট করেছেন তথাগত রায়, এমনটাই অনুমান।

আরও পড়ুনঃ ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা বাড়িয়ে দিন…’, মমতার কাছে চিঠি দিয়ে আবেদন খোদ বিজেপি সাংসদের, দলবদল ঘটছে নাকি ফের?

আবার এই পোস্টের শেষের দিকে তথাগত রায় আরও একটি লাইন যোগ করেছেন। লিখেছেন, “শেষে একটা কথা। যদি কুণাল বা তৃণমূলের অন্য কোন মাল কোন একজন বিজেপি নেতার হয়ে ওকালতি করে, তবে বুঝতে হবে, ডালমে কুছ কালা হ্যায়”।

RELATED Articles