BLO : “ফোনের খরচ নিজের পকেট থেকে দেব কেন?” — ক্ষোভের মুখে কমিশন, অবশেষে উৎসাহ ভাতা পাচ্ছেন বিএলও-রা!

ভোটের মরসুম এলেই বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) উপর বাড়ে কাজের চাপ। ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে শুরু করে তথ্য আপডেট—সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই পরিশ্রমের তুলনায় পারিশ্রমিক কম—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে বিএলওদের জন্য।

সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পর বিএলওদের একাংশ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, এই কাজ করতে গিয়ে প্রচুর মোবাইল ডেটা খরচ হচ্ছে, যা নিজের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে। অনেকের আবার স্মার্ট ফোনই ছিল না—এসআইআরের কাজ করতে বাধ্য হয়ে ফোন কিনতে হয়েছে। সেই কারণেই সাম্মানিকের বেশির ভাগটাই চলে যাচ্ছে ফোন কেনা ও ডেটা খরচে।

এই অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, এসআইআরের কাজের জন্য আলাদা করে ইনসেনটিভ দেওয়ার প্রস্তাব ইতিমধ্যে রাজ্য অর্থ দফতরে পাঠানো হয়েছে। নবান্নের তরফে জানানো হয়েছে, বুথ লেভেল অফিসারদের উৎসাহ ভাতা বাবদ ৬০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তার মধ্যে ১০০০ টাকা মোবাইল খরচ হিসেবে ধরা হয়েছে।

এর আগে প্রতি বছর ভোটার তালিকা পর্যালোচনার কাজে বিএলওরা পেতেন ৬০০০ টাকা সাম্মানিক। এ বছর সেই পরিমাণ দ্বিগুণ করে ১২,০০০ টাকা করা হয়েছে। সাধারণত অক্টোবরের পরে সামারি রিভিশনের কাজ শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলত। কিন্তু এসআইআরের ক্ষেত্রে বাড়তি তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল আপডেটের কারণে খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তাই এবার ফোনের খরচও সরকারি হিসেবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এবার থেকে প্রতি বিএলও ৬০০০ টাকার উৎসাহ ভাতা পাবেন—যার মধ্যে ১০০০ টাকা ফোন খরচ হিসেবে নির্ধারিত। বাকি ৫০০০ টাকা তাঁদের কাজের পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া হবে। বিহারেও অনুরূপ ব্যবস্থা চালু হওয়ায়, এবার পশ্চিমবঙ্গেও একই নীতি গ্রহণের পথে হাঁটছে রাজ্য নির্বাচন দফতর।

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : “মনোজ আগরওয়ালকে ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল!”— এসআইআর ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে CEO দফতরে শুভেন্দু অধিকারী।

দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে অবশেষে হাসি ফিরছে বিএলওদের মুখে। যাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, এখন তাঁরা আশাবাদী—এই সিদ্ধান্তে তাঁদের বাস্তব সমস্যা কিছুটা হলেও মিটবে। অনেকেই মনে করছেন, উৎসাহ ভাতা পেলে কাজের আগ্রহও বাড়বে। তবে প্রস্তাব কার্যকর হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে হবে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles