ভোট মিটতেই ফের ইউ-টার্ন হুমায়ুন কবীরের! তৃণমূলের দিকে ‘সন্ধি’র হাত বাড়িয়ে দিলেন বহিষ্কৃত নেতা? ভোট গণনার আগেই ফের সরগরম রাজ্য রাজনীতি!

ভোটের ফলাফল প্রকাশের আগেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীর। একদিকে যেমন তিনি আবারও তৃণমূলের দিকে ‘সন্ধি’র হাত বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে দল ও নেতৃত্বকে ঘিরে দিয়েছেন একের পর এক কড়া মন্তব্য। তাঁর এই অবস্থান বদল এবং শর্তসাপেক্ষ রাজনৈতিক বার্তা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর নিজস্ব দল গঠন করেন ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দল মোট ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেয়। কিন্তু ভোটের ঠিক আগে থেকেই ধাক্কা খেতে শুরু করে তাঁর দল। প্রায় ৮০টি আসনের প্রার্থী আচমকাই সরে দাঁড়ান বা প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন। ফলে ভোটের ময়দানে নামার আগেই কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে সংগঠন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের ভিতরে আস্থা ও সংগঠনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে এই সময়েই।

এর মধ্যেই আরও বিতর্ক তৈরি হয় একটি ভিডিও ঘিরে, যেখানে তৃণমূলকে হারাতে বিজেপির সঙ্গে ‘ডিল’ নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায় হুমায়ুন কবীরকে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। অনেকেই মনে করেন, এই ঘটনায় তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় ধাক্কা লাগে এবং দলের মধ্যেও বিভাজন আরও বাড়ে। ধীরে ধীরে তাঁর দলের ছন্নছাড়া অবস্থা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ভোট শেষ হতে না হতেই আবারও সুর বদল করতে দেখা গেল হুমায়ুন কবীরকে। শনিবার বহরমপুরে এক সভা থেকে তিনি কার্যত তৃণমূলের সঙ্গে পুনর্মিলনের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, “তৃণমূল যদি হাঁটু গেড়ে আমার কাছে ক্ষমা চায়, বলে যা হয়েছে ভুল হয়েছে, দুর্নীতি করা ভুল হয়েছে, আর দুর্নীতি করব না, তাহলে তখন সমর্থন করার ভাবনাচিন্তা করব।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

শুধু শর্তই নয়, এদিন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “চৌঠা মে-র পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দুবাই চলে যাবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে সংকীর্তন করবে।” এই মন্তব্য ঘিরে শাসকদলের তরফে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোট-পরবর্তী সময়ে এই ধরনের মন্তব্য রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়াবে।

আরও পড়ুনঃ রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুর তদন্তে বড় মোড়! অবশেষে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড পুলিশের! শ্বেতা-লীনা-শৈবালের জিজ্ঞাসাবাদে কী উঠে এল?

সব মিলিয়ে ভোটের ফল প্রকাশের আগেই হুমায়ুন কবীরের এই ‘সন্ধি’ প্রস্তাব এবং শর্তসাপেক্ষ রাজনৈতিক অবস্থান নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে তাঁর ভেঙে পড়া দল, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতি আবারও নরম সুর সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এখন দেখার, তৃণমূল বা রাজ্য রাজনীতি তাঁর এই প্রস্তাবকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং আগামী দিনে তিনি কোন পথে এগোন।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles