বাংলাদেশের রাজনীতিতে এবারও সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে উত্তেজনা ও কৌতূহলের মিশ্রণ দেখা যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সবাই নতুন সরকারের সম্ভাব্য দিনের অপেক্ষায়। তবে এক্ষুণি দেশের রাজনীতিতে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তা অনেকেরই জন্য নতুন এবং উত্তেজনামূলক।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর তারা ক্ষমতার আসনে বসার পথে। কিন্তু আশা অনুযায়ী সোমবারে নতুন সরকার গঠন বা নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একদিকে সংবিধানগত জটিলতার কারণে।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানো হবে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনন্য। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পদত্যাগ করেছেন এবং প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু জেলবন্দি। ফলে শপথ পাঠ করানোর জন্য স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না।
এই সংবিধানগত বাধার কারণে নতুন সরকারের গঠন কার্যক্রম ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সংবিধান এ-ও নির্দেশ দেয়, যদি স্পিকার বা মনোনীত ব্যক্তি নির্বাচিতদের শপথ পাঠ না করান, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু তাতে অবশ্যই সরকারি গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের অপেক্ষা করতে হয়। ফলে সোমবার বা মঙ্গলবার নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Viral video : রাতে ক্যাব বুক করে চমক! গাড়ি আসতেই যা দেখলেন তরুণী, মুহূর্তে ভাইরাল ভিডিয়ো!
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই জটিলতা কেবল সংবিধানগত নয়, রাজনৈতিক সমঝোতাও প্রয়োজন। অন্তর্বর্তী সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। তবে বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষও এই পরিস্থিতির দিকে খেয়াল রাখছেন, কারণ এটি সরাসরি তাদের জীবনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাব ফেলবে।





