WB SIR Voter List: নোটিশ পেয়েও হাজিরা নয়, লজিক্যাল গরমিলেও ধাক্কা—বড়সড় কাটছাঁটের মুখে রাজ্যের ভোটার তালিকা!

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দু একটাই—ভোটার তালিকা। নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে নাম কাটার আশঙ্কা। কার নাম থাকছে, কার নাম বাদ পড়ছে—এই প্রশ্নে উদ্বিগ্ন বহু মানুষ। বিশেষ করে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে বিতর্ক। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।

সূত্রের খবর, শুনানি পর্বে যাঁরা নোটিশ পেয়েও হাজির হননি, তাঁদের মধ্যে ৬ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে। ইতিমধ্যেই শুনানি প্রক্রিয়া কার্যত শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বর্তমানে চলছে তথ্য আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ। কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, শুধুমাত্র শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার কারণেই এই বিপুল সংখ্যক নাম তালিকা থেকে মুছে যেতে পারে।

এতেই শেষ নয়,লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ও আনম্যাপড ভোটারদের তালিকায় থাকা প্রায় ১০ শতাংশ নামও বাদ পড়ার আশঙ্কায়। জানা যাচ্ছে, বহু ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১৩টি নথির মধ্যে অন্তত একটি জমা দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ভোটাররা। সেই কারণেই প্রায় ১০ লক্ষের মতো নাম ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রথম দফায় ফর্ম জমা না পড়ায় মৃত ও স্থানান্তরিত মিলিয়ে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পর, নতুন করে প্রায় ৭৫ লক্ষের কাছাকাছি নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে জল্পনা।

তবে একবার নাম বাদ গেলেই সব শেষ নয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পাঁচ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকের (District Magistrate) কাছে আবেদন করা যাবে। সেখানেও সমাধান না মিললে, আরও পাঁচ দিনের মধ্যে সিইও (CEO Office)-র দফতরে আপিলের সুযোগ থাকবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পেতে চলেছে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তার আগে চলছে শেষ মুহূর্তের স্ক্রুটিনি।

আরও পড়ুনঃ Bangladesh: বিএনপি জয় পেলেও সোমবারের আগে নতুন সরকার গঠন সম্ভব নয়, সংবিধান ও শপথ জটিলতা বাধা – কেন ক্ষমতা হস্তান্তরে দেরি ইউনূসের?

এদিকে এসআইআর ঘিরে ইআরও (ERO)-দের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ। অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আধার (Aadhaar) বা প্যান (PAN Card) নম্বরের ভিত্তিতে তথ্য আপলোড করা হয়েছে। মাইক্রো অবজার্ভারদের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সেই প্রক্রিয়া সংশোধন হয়নি বলেই দাবি। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত ইআরওদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকার এই কাটছাঁট রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকার দিকে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles