গত ১২ বছরে বেতন বাড়াননি, উপরন্তু করোনার চলতে এবার বেতনই নেবেন না মুকেশ অম্বানি

ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি গত ১২ বছর ধরে নিজের বেতন বৃদ্ধি করেননি। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও এটাই সত্যি যে গত ২০০৮-০৯ অর্থবর্ষ থেকে ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি মুকেশ অম্বানির বেতন ১৫ কোটি টাকা। এ বছরও তিনি সেই বেতনেই কাজ করছেন। দেশজুড়ে এখন করোনার মতো মারণ ব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি এ বছর বেতনই নেবেন না বলেও জানিয়েছেন। এবছর বেতন, ভাতা, কমিশন মিলিয়ে তাঁর ২৪ কোটি টাকা বেতন হত যা তিনি এই বছর নিচ্ছেন না।

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতে করোনা সংক্রমণের কথা ভেবেই চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুকেশ ডি অম্বানি এ বছর স্বেচ্ছায় বেতন না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। করোনা সংক্রমণের ফলে ভারতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শৈল্পিক স্বাস্থ্যের উপর কুপ্রভাব পড়েছে। বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সকে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব না কমা পর্যন্ত তিনি বেতন গ্রহণ করবেন না।’

২০১৯ অর্থবর্ষের বার্ষিক রিপোর্টে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘২০০৮-০৯ অর্থবর্ষ থেকে চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিজের বেতন ১৫ কোটি টাকাতেই আটকে রেখে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ বছরের এপ্রিলের শেষে যখন সংস্থা বেশিরভাগ কর্মীদের বেতন ১০ থেকে ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তিনি সেখানে বেতন না নেওয়ার কথা জানান। যতদিন না সংস্থার কাজকর্ম পুনরায় স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ব্যবসার আয় বাড়ছে, ততদিন তিনি বেতন নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ওই সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তারাও ৫০ শতাংশ বেতন নেবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।’

২০১৯-২০ অর্থবর্ষে মুকেশের বেতন ও ভাতা মিলিয়ে পাওয়ার কথা ছিল ৪.৩৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে তার পাওনা ছিল ৪.৪৫ কোটি টাকা। এছাড়া তাঁর কমিশন ৯.৫৩ কোটি টাকাও আছে। গত অর্থবর্ষগুলিতে তার বেতনের অতিরিক্ত টাকা ৩১ লক্ষ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪০ লক্ষ। এছাড়া অবসরকালীন ভাতা হিসেবে তার পাওনা মোট ৭১ লক্ষ টাকা। মুকেশের আত্মীয় নিখিল আর মেসওয়ানি ও হিতাল আর মেসওয়ানির বেতন ২০.৫৭ কোটি টাকা বেড়ে হয় ২৪ কোটি টাকা। মুকেশের স্ত্রী নীতা অম্বানি সংস্থার নন-এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর হলেও, কমিশন বাবদ পান ১.১৫ কোটি টাকা। তাঁর সিটিং ফিও সাত লক্ষ টাকা।

RELATED Articles

Leave a Comment