লকডাউনই আশীর্বাদ, আট দশকে প্রথমবার রেকর্ড বিক্রি এই ভারতীয় বিস্কুটের প্যাকেটের

দুমাসের লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসাক্ষেত্র বাদ দিয়ে লোকসানের মুখ দেখেছে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু সেখান থেকে একেবারে উল্টো পথে হেঁটেছে পার্লে সংস্থা। গত মার্চ মাস থেকে মে মাস পর্যন্ত পার্লে ব্র্যান্ডের যত বিস্কুট বিক্রি হয়েছে তার সংস্থার ৮০ বছরের ইতিহাসে আগে কখনও হয়নি বলে জানা গিয়েছে। আর এটা কিন্তু সম্ভব হচ্ছে শুধুমাত্র পার্লে জি বিস্কুটের হাত ধরেই। দেশের সবচেয়ে সস্তা বিস্কুট এটাই। আজকের দিনেও ৩ টাকার প্যাকেটে ৯টা পার্লে জি পাওয়া যায়। তাই গোটা দেশে এই বিস্কুট গরীবের বিস্কুট নামেই পরিচিত। কিন্তু এই গরীবের বিস্কুটের হাত ধরেই এবার বড়লোক হল পার্লে সংস্থা।

ভারতে বিস্কুটের বাজারে ১৯২৯ সাল থেকে পথ চলা শুরু পার্লের। ১৯৩৮ সালে দেশের বিস্কুটের বাজারে পার্লে-জি একটি পরিচিত ব্র্যান্ড হয়ে ওঠে। রাস্তা ঘাটে চটজলদি খিদে মেটানোর সস্তা ও টেকসই উপায়। লকডাউনের বাজারে অসংখ্য অসহায় মানুষের খিদে মিটিয়ে এবার রেকর্ড অঙ্কের ব্যবসা করেছে এই বিস্কুট।

পার্লে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত ৮২ বছরে সংস্থা যে লাভের মুখ দেখেনি, করোনা লকডাউনের তিন মাস সেটা দেখিয়েছে। যদিও বিক্রি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আনা হয়নি। পার্লে প্রোডাক্টস্-এর অন্যতম শীর্ষকর্তা ময়াঙ্ক শাহ বলেন, ‘দেশের বাজারে আমাদের সামগ্রিক অংশীদারিত্ব প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে পার্লে জি-র ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ অবদান। এই ফলাফল আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত।’

দেশের মোট বিস্কুটের বাজারের প্রায় ৩২ শতাংশ এই মুহূর্তে পার্লের একার দখলে রয়েছে। লকডাউনে অন্য সংস্থাগুলির তুলনায় পার্লের ব্যবসা বৃদ্ধির হার সর্বাধিক বলেও জানা গিয়েছে। যদিও একটা সময় এই সংস্থা প্রায় ডুবে গিয়েছিল। মন্দার কারণে ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, সংস্থা প্রায় দশ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। আর এখন লকডাউনের ফলে যখন বেশির ভাগ ব্যবসাই চূড়ান্ত মন্দার মুখে তখন উল্টো ছবি পার্লে সংস্থার।

আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির এই বাজারে কী ভাবে এল এই সাফল্য?

এই প্রসঙ্গে পার্লে জানিয়েছে, বিগত কয়েক বছরে দেশের গ্রামীণ এলাকাগুলিতে পার্লে-জি বিস্কুটের সরবরাহ বা জোগান যথেষ্ট বাড়ানো হয়েছিল। লকডাউন এর আবহে দেশে ১৩০টি কারখানার মধ্যে ১২০টি কারখানা সচল রাখা হয়েছিল উপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে। কোথাও সে ভাবে পার্লের বিস্কুটের সরবরাহে ঘাটতি হয়নি। মহামারির আবহে যার সুফল পেয়েছে সংস্থা। আর লকডাউনের কারণে পরিযায়ী শ্রমিক থেকে মধ্যবিত্ত সকলেই অন্য সংস্থার দামী বিস্কুটের তুলনায় খিদে মেটাতে সস্তার পার্লে-জি বিস্কুটের দিকেই ঝুঁকেছেন। তারই ফল পেয়েছে এই সংস্থা, অর্থনীতির ভরাডুবির এই বাজারেও প্রবল মুনাফা ঘরে তুলেছে পার্লে।

RELATED Articles

Leave a Comment