পাঁচটি রাজ্যে উদ্ভূত আর্থিক চাপ নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সেই রাজ্যগুলিকে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সতর্ক করে আরবিআই। ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্রের নেতৃত্বে অর্থনীতিবিদদের একটি দল দ্বারা তৈরি আরবিআই-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে পাঁচটি রাজ্য সবথেকে বেশি ঋণগ্রস্ত, সেগুলি হল – পাঞ্জাব, রাজস্থান, বিহার, কেরালা এবং পশ্চিমবঙ্গ। এই রাজ্যগুলিকে অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ব্যয় কমানোর নির্দেশ দিয়েছে আরবিআই।
আরবিআইয়ের ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ বছরে এই পাঁচটি রাজ্যে তাদের আয়ের অনুপাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিনামূল্যে ভর্তুকিযুক্ত স্কিমগুলির কারণে এই রাজ্যগুলির জন্য ঋণের ব্যয় বাড়ছে। করোনা কালে ধাক্কার কারণে তাদের রাজস্ব ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অনেক রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলির বকেয়া পরিশোধ করতেও পারেনি। আবার অন্যদিকে ভর্তুকিতে তাদের দায় বাড়ছে। এই পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কার মতো সংকটের দিকে আঙুল দিচ্ছে। এই রাজ্যগুলিকে সময়মতো তাদের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হবে।
আরবিআইয়ের তরফে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে অনেক রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কিছু রাজ্য পুরানো পেনশন স্কিমগুলি পুনরুদ্ধারের ঘোষণা করেছে। এর জেরে ওই রাজ্যে নতুন ধরণের আর্থিক সংকট তৈরি করতে পারে।
আরবিআইয়ের তরফে জানানো হয়েছে, এই রাজ্যগুলির ঋণের অনুপাত তাদের জিডিপিতে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশে পৌঁছাবে। তা যাতে না হয়, সেই কারণে রাজ্যগুলিকে অবিলম্বে তাদের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঋণকে জিডিপির অনুপাতে স্থির রাখার এই একমাত্র উপায়।
আরবিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড, কেরালা, ওড়িশা, তেলেঙ্গানা এবং উত্তরপ্রদেশ মহামারীর পরে গত তিন বছরে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দেওয়া রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে। কেরালায় মোট রাজস্বের ৯০ শতাংশ ঋণ এবং ভর্তুকিতে ব্যয় করা হয়। সেই কারণেই এই রাজ্যগুলিতে ইনফ্রা এবং অন্যান্য প্রকল্পের ব্যয় ক্রমাগত কম হচ্ছে।





