২০১৪ সালে টেট পাশ করে চাকরি পাওয়া সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের তথ্য যাচাই শুরু, বাতিলের তালিকায় কী ঢুকবে আরও নাম?

কিছুদিন আগেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় টেট নিয়োগে দুর্নীতির জেরে ২৬৯ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষায় চাকরি পেয়েছিলেন তারা। এই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে আদালতের নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে হাইকোর্টের তরফে। এবার ফের একবার চাপের মুখে টেটে চাকরিপ্রাপকরা।

জানা যাচ্ছে, ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষা দিয়ে যেসমস্ত চাকরিপ্রার্থীরা চাকরি পেয়েছেন, তাদের সকলের নানান নথি যাচাই করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। সমস্ত শিক্ষকদের নথি যাতে যাচাই করে দেখা হয়, সেই নিয়ে স্কুল সাব ইন্সপেক্টরদের চিঠি দিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদগুলি।

গতকাল, সোমবার বিধানসভায় মমতা বলেন, “এক লক্ষ চাকরি দিতে গিয়ে একশোটা ভুল হতেই পারে। তা শুধরে নিতে হবে। এবং সময় দিতে হবে। বেকারদের আমরা চাকরি দেব। তাতে যদি কোনও সমস্যা হয়, তা মিটিয়ে নিতে হবে”। আর এরপরই ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি পাওয়া শিক্ষকদের নথি তলব করল শিক্ষা পর্ষদ।

এই নির্দেশ অনুযায়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তরফে স্কুল সাব ইন্সপেক্টরদের বলা হয়েছে যে ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষা দিয়ে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের অ্যাডমিট কার্ড, চাকরি পাওয়ার অনুমোদনের চিঠি,  সমস্ত শংসাপত্র জমা করতে হবে। চাকরিপ্রাপকদের নিয়োগপত্র এবং ইন্টারভিউ ও কাউন্সেলিংয়ের চিঠিও জমা করতে হবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তদন্তের কারণে সিবিআই যদি ২০১৪ সালে চাকরিপ্রাপকদের তথ্য তলব করে, তাহলে তা তাদের হাতে তুলে দিতে হবে বলে জানা গিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফে।

২০১৪ সালে টেট পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়, সেই পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালে। টেট পরীক্ষার প্রথম মেধাতালিকা প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। এরপর ফের ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় মেধাতালিকা। সেখানে নাম ছিল ২৬৯ জনের। এর ২৬৯ জনকেই বেআইনিভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। আদালতের তরফে এই ২৬৯ জনের চাকরি বাতিল করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, ২০১৪ সালের টেটে প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার জন চাকরি পান। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সকলের নথি জোগাড় করায় এখন প্রত্যেকেই কার্যত তদন্তের আওতায় রয়েছেন। সিবিআই যদি চায়, তাহলে নথি খতিয়ে দেখতে পারে। এর জেরে পাশ করে চাকরি পাওয়া প্রত্যেক শিক্ষক-শিক্ষিকাই এখন বেশ চাপের মুখে।

RELATED Articles