করোনা কালে লকডাউনের সময় স্কুল-কলেজ চলছে অনলাইন মাধ্যমে। নানান কাজ, অফিস চলেছে অনলাইনেই। বিয়ে থেকে পুজো, নানান অনুষ্ঠানও অনলাইনে হওয়ার দৃষ্টান্ত রয়েছে। সংক্রমণে রাশ টানার জন্য ক্যাশলেশ ট্রানজাকশন বা অনলাইনে টাকা দেওয়া-নেওয়া শুরু হয়।
কিন্তু অনলাইন মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি করতে কী কখনও দেখেছেন বা শুনেছেন? কিন্তু এমনটা ঘটছে। বিদেশে কোথাও নয়, খোদ আমাদের দেশ ভারতেই। বিহারের এক ভিক্ষুক অনলাইনে ভিক্ষা করে নজির গড়লেন।
রাজু প্যাটেল বিহারের বাসিন্দা। তাঁর বয়স ৪০ বছর। তিনি পেশায় ভিক্ষুক। বেত্তিয়া রেল স্টেশনে ভিক্ষা করেন তিনি। তাঁর গলায় ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে QR কোড এবং ফোন নম্বর লেখা রয়েছে। হাতে রয়েছে একটি ট্যাব। ভিক্ষা করার সময়ে টাকা অনলাইনে অর্থাৎ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়ার জন্য আবেদন জানান রাজু। সংবাদ সংস্থা এএনPeআই-কে রাজু জানান, “ছোটবেলা থেকে ভিক্ষা করি। এ ভাবেই দিন চলে। অনেকেই এখন নগদ টাকা নিয়ে যাতায়াতে স্বচ্ছন্দ নন। তাই আমিও আপডেট করেছি নিজেকে। এখন ডিজিট্যাল মাধ্যমেও ভিক্ষার টাকা নিই। অনেকেই বলেন ডিজিট্যাল দুনিয়ায় ক্যাশ নিয়ে যাতায়াতে সমস্যা হয়। তাই এ ভাবে টাকা নিলে অনেক সময়ে সুবিধা হয়। সব দিক ভেবে তাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর ই-ওয়ালেট খুলেছিলাম”।
রাজু আরও জানান, “জীবনধারণের জন্য আর কনও কাজ পাইনি। তাই ভিক্ষাই আমার পেশা। ভিক্ষা করে যেটুকু রোজগার হয়, তাতে আমার চলে যায়। খাওয়া-দাওয়া করে স্টেশনেই ঘুমাই”।
রাজু জানান যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় তাঁর থেকে প্যান ও আধার নম্বর চাওয়া হয়। সেই সময় নিজের প্যান কার্ড বানিয়েছিলেন তিনি। বেত্তিয়ার স্টেট ব্যাঙ্কের মূল শাখায় রয়েছে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। সেখানেই তাঁর টাকা জমা পড়ে। তিনি এও জানান যে তিনি লালু যাদবের দলের সমর্থক। তিনি এও জানান যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানও শোনেন।





