আজকের দিনে প্রেম মানেই শুধু রেস্তোরাঁ বা পার্কে দেখা নয়। এখনকার প্রজন্ম চাইছে একটু আলাদা কিছু। তারা খুঁজছে এমন একটা জায়গা, যেখানে কারও নজর ছাড়াই কাটানো যাবে কিছু একান্ত সময়। এই সময়ে যদি কেউ বলে, এমন এক ক্যাব পরিষেবা এসেছে যেখানে যুগলেরা নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারবেন, এমনকি চুম্বনও করতে পারবেন চালকের নজর এড়িয়ে—তাহলে চোখ কপালে উঠবে না, এমন মানুষের সংখ্যা কম! ঠিক এমনই এক দাবিকে ঘিরেই রীতিমতো তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।
সম্প্রতি এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। ‘অনুষ্কা’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয়েছে এক বিজ্ঞাপনের ছবি। সেখানে দাবি করা হয়েছে, কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে ‘Smuzzi’ নামের একটি ক্যাব সংস্থা চালু করেছে অভিনব পরিষেবা—ক্যাব বুক করলেই যুগলরা পাবেন একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ, তাও আবার কোনওরকম নজরদারি ছাড়াই। পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই ‘প্রেমের ক্যাব’-এ বসেই যুগলেরা চুম্বন করতে পারবেন নিশ্চিন্তে। এমনকি চালকও ফিরে তাকাবেন না!
বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছে, এই বিশেষ পরিষেবায় ক্যাবের ভিতরে থাকবে না কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা। তবে থাকছে কিছু নিয়মকানুন। চুম্বনের সময় কোনও রকম উচ্চস্বরে আওয়াজ করা যাবে না। সেইসঙ্গে ক্যাবে করে কেবলমাত্র প্রেমের সময় কাটানো যাবে, কোনও নেশার দ্রব্য যেমন মদ বা মাদক সঙ্গে রাখা চলবে না। চালক যদি কোনও অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারেন, তাহলে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন বলেও জানানো হয়েছে।
পোস্টটি ভাইরাল হতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, এমন পরিষেবা শহরের ট্রাফিক আর ভিড়ের মাঝে একান্ত সময় কাটানোর আদর্শ জায়গা হতে পারে। আবার অনেকে কটাক্ষ করে বলছেন, সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে! কেউ বা পুরো বিষয়টিকে নিছকই একটি মার্কেটিং স্টান্ট হিসেবে দেখছেন। ভাইরাল হওয়া পোস্টটিতে ইতিমধ্যেই হাজার হাজার লাইক এবং শতাধিক মন্তব্য জমা পড়েছে।
শেষ পর্যন্ত সামনে আসে আসল তথ্য। Smuzzi-র তরফেই জানানো হয়, এটি একটি নিছক মজা ছিল। ওই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছিল ১ এপ্রিল, অর্থাৎ এপ্রিল ফুলের দিনে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চুম্বন-ক্যাবের কোনও বাস্তব অস্তিত্ব নেই। এটি ছিল শুধুই একটি মজার কনসেপ্ট, যার মাধ্যমে কিছুটা ভাইরাল হতে চাওয়া হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, Smuzzi একটি ডেটিং অ্যাপ, যেখানে ব্যবহারকারীরা তাঁদের মিম পছন্দের উপর ভিত্তি করে নিজেদের মতামত মেলে এমন সঙ্গী খুঁজে পান।
আরও পড়ুনঃ Teacher suicide attempt : চাকরি হারানোর পর টাকা চাইতে এসে হুমকি দিয়েছিল পাওনাদাররা, শিক্ষিকার আত্মহত্যার চেষ্টায় স্বামীর বিস্ফোরক অভিযোগ
এই ঘটনার পর অনেকেই মন্তব্য করেছেন, এমন অভিনব আইডিয়া নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ হলেও, এতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সম্ভাবনাও ছিল। তবুও, ১ এপ্রিলের এই ভুয়ো বিজ্ঞাপন বেশ সফলভাবেই জায়গা করে নিয়েছে ভাইরাল তালিকায়।





