শুক্রবার জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা তার আগে আপনাদের জানাবো আউশগ্রামের অন্য আর এক ‘জগন্নাথ’র কথা। যিনি তাঁর দু’টি পা দিয়েই ব্ল্যাকবোর্ডে ম্যাজিক দেখান। হাত দিয়ে রথের দড়ি টানার আক্ষেপ রয়ে গেছে তাঁর মনে।
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বেলুটি গ্রামের বাসিন্দা জগন্নাথ বাউড়ি। তিনি পেশায় একজন প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক। শুধু তাই নয়, তিনি জয়কৃষ্ণপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তাঁর এতদূরের পথ খুব সহজ ছিল না। ছোটবেলায় জন্ম থেকেই তাঁর দু’হাত না থাকায় মা-বাবা নাম দিয়েছিলেন জগন্নাথ। বাবা লক্ষণ বাউড়ি ছিলেন দিনমজুরি। বর্তমানে ছেলে বারণ করায় সেই কাজ ছেড়েছেন।
বাড়িতে আটজনের সংসারের হাল তিনি ধরেছেন। বাড়িতে আছে দুই ছেলেমেয়ে, মা এবং স্ত্রী। মায়ের গর্ব ছেলে জগন্নাথ। মা সুমিত্রাদেবী জানিয়েছেন, ‘ছেলের জন্মের পর থেকেই দু’টি হাত ছিল না। ছেলে অদম্য জেদে আর্থিক এবং শারীরিক প্রতিদ্বন্ধীকতাকে হারিয়ে পায়ের আঙ্গুল দিয়ে পেন পেনসিল ধরে লেখা পড়া করেন। ২০১০ সালে প্রাথমিক শিক্ষক পদে নিয়োগ হয়। এখন পা দিয়ে চক ডাস্টার দিয়েই ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা শেখায়।’
অভিভাবকদের মনে সংশয় ছিল, দু’ হাত না থাকলে পড়াবেন কী করে? পরে সেই সংশয় জগন্নাথবাবু নিজেই দূর করে দিয়েছেন। এমনকি তাঁর ক্লাস নেওয়া দেখে মুগ্ধ সহকর্মীরাও।
সহকর্মী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ‘অনেক শিক্ষক শিক্ষিকার থেকে জগন্নাথবাবু ভালো বোর্ডওয়ার্ক করেন। তিনি দেখিয়েছেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কীভাবে একজন আদর্শ শিক্ষক ও যোগ্য মানুষ হয়ে ওঠা যায়।’ জগন্নাথ মাস্টারের পা দিয়ে ম্যাজিক দেখে খুশি পড়ুয়ারাও।





