আজকের দিনে যেখানে একটা স্মার্টফোনেই রয়েছে ড্রাইভিং লাইসেন্স থেকে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন পর্যন্ত সবকিছু, সেখানে অনেকেই নিশ্চিন্তে বেরিয়ে পড়েন রাস্তায়। অফিস, কলেজ, বা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় ডিজিলকার বা এম-পরিবহন অ্যাপে চোখ রাখলেই পাওয়া যায় সমস্ত বৈধ কাগজপত্র। কিন্তু বাস্তবটা ঠিক কতটা সহজ? কোনও চেকিং-এ পড়ে গেলে, সব অফিসারই কি বুঝতে পারেন এই ডিজিটাল সুবিধার বৈধতা?
নিয়মকানুন মানা যেমন গাড়িচালকদের দায়িত্ব, তেমনই পুলিশ অফিসারদেরও দায়িত্ব আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া। কিন্তু কাগজ না দেখানোর অজুহাতে যদি অপমান, হুমকি কিংবা শারীরিক হেনস্থা হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠে যায়—সেই আইন কার জন্য? একদিকে সরকার মানুষকে উৎসাহ দিচ্ছে ডিজিটাল ডকুমেন্ট ব্যবহারে, আর অন্যদিকে যদি পুলিশই তা মানতে না চায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কি আর কোনও উপায় থাকে?
ঘটনাটি ঘটেছে কোলকাতার বংশদ্রোণি থানা এলাকায়। একজন বাইকচালক তার সঙ্গে থাকা যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন, যখন তাকে থামায় ট্রাফিক অফিসার। অভিযোগ, তিনি হেলমেট না পরা বা অন্য কোনও চরম ভুল করেননি, বরং ডিজিলকার অ্যাপে নিজের বৈধ নথি দেখানো সত্ত্বেও অফিসার তা মানতে রাজি হননি। এরপরই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মাঝেই অফিসার তাকে চড় মারেন—এমনই দৃশ্য ধরা পড়েছে এক পথচারীর মোবাইলে। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক।
লালবাজারের ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে আগেও একাধিকবার জানানো হয়েছে যে ডিজিলকার বা এম-পরিবহন অ্যাপে থাকা নথি সম্পূর্ণ বৈধ। আইন অনুযায়ী, যদি কোনও নথি সঙ্গে না থাকে, তাহলে পুলিশ চটজলদি কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত না করে একটি ‘নোটিশ’ জারি করে ভবিষ্যতে তা জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু ভিডিও অনুযায়ী, পুলিশ কর্মী আইন না মেনে সরাসরি শারীরিক হেনস্থার পথে হাঁটেন। অভিযোগ, কোনও নোটিশ ছাড়াই হুমকি ও চড় মারেন।
আরও পড়ুনঃ Amit Shah : অমৃতপাল গ্যাং কি সত্যিই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে? নিশানায় অমিত শাহ, বিট্টু, মাজিথিয়া!
ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর কোলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত একজন সহকারী সাব-ইনস্পেক্টর (ASI), তিনি ট্রাফিক ইউনিটে নন, তবে ঘটনাটি গুরুতর হওয়ায় তদন্ত শুরু হয়েছে। লালবাজারে তরফে তার লিখিত জবাব তলব করা হয়েছে। যদিও বাইকচালক বা অফিসারের নাম সরকারি ভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে জনমতের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন—“ডিজিটাল ইন্ডিয়া মানে কি ডিজিটাল অপমান?” এখন দেখার, পুলিশের তরফে সত্যিই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না।





