আমরা যেন যত বেশি আধুনিক হচ্ছি, ততই বেশি যেন আমাদের মধ্যে থেকে মানবিকতা জিনিসটা হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত কত ঘটনাই সামনে আসে যেখানে দেখা যায় বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে সন্তান। মা-বাবার উপর অত্যাচার, এমনকি সম্পত্তির জন্য বাবাকে খুন করার ঘটনাও সামনে এসেছে বহুবার।
তবে এবার এমন একটি ঘটনার কথা শোনা গেল, তা সকলকে বেশ আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। নানান ধরণের ঘটনাই তো আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। কিছু কিছু ঘটনা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। এটিও সেরকম ধরণেরই একটি ঘটনা।
কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর সাধারণত তাঁর পারলৌকিক ক্রিয়া করা হয় ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। তবে বিহারের মধুবনী জেলার এক ব্যক্তি তাঁর বাবার মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ভোজের বদলে গ্রামবাসীর সুবিধার্থে একটি সেতু তৈরি করলেন। এই সেতু বানাতে খরচ হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা। এই ঘটনার কথা সামনে আসতেই বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, কালুয়াহি ব্লকের নারার পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে কোনো সেতু না থাকায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রবল অসুবিধার মুখে পড়তে হত স্থানীয় বাসিন্দাদের। বেশ ক্ষুব্ধও হয়ে উঠেছিলেন গ্রামবাসীরা। বর্ষাকালে প্রবল দুর্ভোগের মধ্যে পড়তেন সকলে। এমন অবস্থায় মহাদেব ঝাঁ নামের গ্রামেরই এক বাসিন্দা একটি সেতু তৈরি করতে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই কাজ শেষ করার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। তবে মহাদেব ঝাঁ-র সেই ইচ্ছে পূরণ করলেন তাঁর ছেলে সুধীর ঝাঁ।
সুধীর ঝাঁ জানান যে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর তাঁর মনে হয়েছিল যে নানান অনুষ্ঠানে ভোজের জন্য লক্ষাধিক টাকা না খরচ করে সেই টাকা দিয়ে ওই সেতুটি তৈরি করা উচিত। এই প্রসঙ্গে, সুধীরের মা জানান যে তাঁর স্বামী একজন শিক্ষক ছিলেন। ২০২০ সালে মৃত্যু হয় তাঁর। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল যে শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ভোজের বদলে যেন এই সেতু নির্মাণ করা হয়। তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই তাঁর ছেলে এই সেতু নির্মাণ করার কাজ করেন।
সুধীরের এই কাজে খুবই খুশি গ্রামবাসীরা। সকলের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। সকলের মতে, সুধীর সমাজকে এক অন্য পথ দেখিয়েছেন। বর্ষার সময় গ্রামবাসীদের যে দুর্ভোগ হত, এখন আর তা হবে না বলেই আশাবাদী সকলে।





