US Trade Impact: ট্রাম্পের শুল্ক-ঝড়! ৫০% ট্যারিফে থমকে গেল মার্কিন অর্ডার, বিপদে ভারতীয় রপ্তানি!

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন করে ঝড় তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাম্প্রতিক শুল্ক নীতি শুধু ভারত নয়, গোটা বৈশ্বিক বাজারের ওপরই প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ভারতীয় বস্ত্র ও পোশাক শিল্প এখন প্রবল চাপে। দেশটির অন্যতম বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হঠাৎ করেই প্রধান রিটেল জায়ান্টরা অর্ডার স্থগিত করেছে। এর ফলে শিল্প মহলে অস্থিরতা বেড়েছে, আর রপ্তানিকারক সংস্থাগুলির মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

সূত্রের খবর, ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছে। রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ বাড়িয়ে ২৭ অগস্ট থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর আগেই ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, এবার সেই অঙ্ক দ্বিগুণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান রিটেল পার্টনার ওয়ালমার্ট, অ্যামাজন, টার্গেট ও গ্যাপ—সহ একাধিক মার্কিন কোম্পানি আপাতত ভারত থেকে নতুন অর্ডার বন্ধ রেখেছে। পোশাক ও বস্ত্র সরবরাহ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে মার্কিন ক্রেতারা রপ্তানিকারকদের ইমেল পাঠিয়েছে।

রপ্তানিকারক মহল জানাচ্ছে, শুল্ক বৃদ্ধির ফলে খরচ ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। এতে মার্কিন অর্ডার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যেতে পারে, যার ফলে প্রায় ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়েলসপান লিভিং, গোকালদাস এক্সপোর্টস, ইন্দো কাউন্ট ও ট্রাইডেন্টের মতো শীর্ষ ভারতীয় রপ্তানিকারক সংস্থাগুলি মার্কিন বাজারে তাদের উৎপাদনের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ রপ্তানি করে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে ভারতের বরাদ্দ অর্ডার বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মতো দেশে সরে যেতে পারে, যেখানে শুল্কের হার মাত্র ২০ শতাংশ।

পরিস্থিতি সামলাতে শুক্রবার দুপুরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানির ওপর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে। কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনে বিকল্প বাজার খোঁজা এবং বিদেশি বিনিয়োগ টিকিয়ে রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।

আরও পড়ুনঃ RG KAR case : ন্যায় না পেলে পুরস্কার নয়! সিবিআই তদন্তে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিলোত্তমার বাবা-মা!

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক ধাপে এত বেশি শুল্ক আরোপ গত ১০০ বছরে দেখা যায়নি। সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৩০ সালে ‘সুরক্ষিত মার্কিন অর্থনীতির’ আমলে। এবার প্রায় ১০০টি দেশের পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানোর ফলে এক রাতেই বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে পতন হয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার বাজারে এর প্রভাব স্পষ্ট। ট্রাম্পের লক্ষ্য মূলত রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শুক্রবারের মধ্যে যুদ্ধ শেষ না হলে সমস্ত গ্রাহক দেশের উপর সেকেন্ডারি স্যাংশন আরোপ করা হবে।

RELATED Articles