RG KAR case : ন্যায় না পেলে পুরস্কার নয়! সিবিআই তদন্তে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিলোত্তমার বাবা-মা!

মেয়ের ধর্ষণ ও খুনের বিচার চেয়ে দীর্ঘ এক বছর ধরে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিলোত্তমার বাবা-মা। নানা প্রতিশ্রুতি, তদন্তের নানা ধাপ পার করেও শেষমেশ তাঁদের ক্ষোভ যেন চরমে উঠেছে। দিল্লি সফর থেকে কলকাতায় ফেরার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তাঁরা। শুধু ক্ষোভই নয়, প্রতিবাদ জানাতে ফেরত দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ একটি পুরস্কারও। তবে কী ঘটল দিল্লিতে, যা এতটা হতাশ করল শোকাহত পরিবারটিকে?

শনিবার তিলোত্তমার মৃত্যুর বর্ষপূর্তি। তার আগে বুধবার দিল্লি রওনা দেন বাবা-মা। মূল উদ্দেশ্য ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ। তাঁদের আশা ছিল, এই সাক্ষাতের মাধ্যমে হয়তো তদন্তের গতি বাড়বে। তবে শেষমেশ সেই দেখা আর হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতা ফেরার সময় বাবা জানান, অমিত শাহ সোমবার পর্যন্ত থাকতে বলেছিলেন, কিন্তু নবান্ন অভিযানের কারণে থাকা সম্ভব হয়নি। তিনি স্পষ্ট জানান, পরে সময় মিললে আবারও দিল্লি গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

দিল্লিতে থাকাকালীন সিবিআই ডিরেক্টর প্রবীণ সুদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। সেখানেই হতাশা আরও বেড়ে যায়। তিলোত্তমার বাবার কথায়, “দেশের ১৪০ কোটি মানুষ যাদের ভরসায় থাকে, তারা এত বোগাস হতে পারে—এই প্রথম দেখলাম।” অভিযোগ, সিবিআই ডিরেক্টর নিজেই নাকি বলেছেন, এই মামলা তারা ছেড়ে দিতে চান। উত্তরে তিলোত্তমার বাবা কোর্টে গিয়ে সেই কথা বলার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। তাঁর প্রশ্ন—কেন এখনো জানা গেল না কারা ধর্ষণ ও খুনে যুক্ত ছিল, কোথায় অপরাধ ঘটেছিল, আর এর উদ্দেশ্য কী ছিল?

এই ক্ষোভ প্রকাশ করতেই সিবিআই ডিরেক্টরের হাতে একটি প্ল্যাকার্ড দেন তাঁরা। একপাশে ছিল তাঁদের প্রশ্ন, অন্যপাশে লেখা—“মেরুদণ্ড বাড়ান কিংবা পদত্যাগ করুন।” অভিযোগ, সিবিআইয়ের কাছে কোনও উত্তরই মেলেনি। তিলোত্তমার মা জানান, ডিরেক্টর প্ল্যাকার্ডটি ফেরত দিয়ে বলেন, তাঁদের মেরুদণ্ড আছে, কিন্তু বাবা-মার দাবি—“আপনাদের মেরুদণ্ড নেই।” এই প্রতীকী প্রতিবাদই তাঁদের হতাশা এবং ক্ষোভের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে।

আরও পড়ুনঃ Donald Trump Big Threat : ট্যারিফ দ্বিগুণ, ভারতের সঙ্গে সব বাণিজ্য বন্ধের ইঙ্গিত ট্রাম্পের!

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা তিলোত্তমার মাকে নারীশক্তি অ্যাওয়ার্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তা ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমার মেয়ে ন্যায় পেলে তবেই এই অ্যাওয়ার্ড নেব।” দিল্লি সফরে তাঁদের আইনজীবী করুণা নন্দীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। এখন তাঁদের একমাত্র দাবি—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি। এক বছর পূর্ণ হলেও বিচারের আলো দেখতে না পাওয়া এই পরিবার এখনও আশা ছাড়েনি, তবে সিস্টেমের প্রতি হতাশা আকাশছোঁয়া।

RELATED Articles