Awami League Office : দেশত্যাগের পর ভারতে আশ্রয় নিলেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা, কলকাতায় চালু পার্টি অফিস!

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত বছরের আগস্ট মাস ছিল নাটকীয় পরিবর্তনের সময়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন এবং দেশত্যাগ করেন। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটলেও, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেমে থাকেননি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নতুনভাবে সাজানোর জন্য তারা বিদেশে থেকেই কৌশল নির্ধারণ শুরু করেছেন। আর সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই, প্রতিবেশী দেশ ভারতের মাটিতে, বিশেষ করে কলকাতার উপকণ্ঠে, গোপনে খুলে ফেলেছেন নতুন ‘পার্টি অফিস’।

বাংলাদেশ ছাড়ার পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী আশ্রয় নেন ভারতে। কেউ সপরিবারে, কেউ বা দলবেঁধে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় থাকতে শুরু করেন। প্রথমদিকে দলীয় মিটিং হতো ব্যক্তিগত বাসায় বা রেস্টুরেন্ট-ব্যাঙ্কয়েট হল ভাড়া করে। কিন্তু নিয়মিত যোগাযোগ ও সাংগঠনিক কাজের জন্য প্রয়োজন হয় নির্দিষ্ট একটি স্থানের, যা এখন পূরণ হয়েছে নতুন এই অফিসের মাধ্যমে। কলকাতার লাগোয়া এক ব্যস্ত বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের আটতলায় গোপনে চালু হয়েছে এটি। বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই—না আছে কোনো সাইনবোর্ড, না শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুর ছবি—যাতে গোপনীয়তা বজায় থাকে।

এই অফিসে নিয়মিত আসেন কলকাতায় থাকা শীর্ষ ও মধ্যম স্তরের আওয়ামী লীগ নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, এমনকি সহযোগী সংগঠনের প্রধানরাও। কিছু সূত্র জানায়, বর্তমানে অন্তত ৮০ জন প্রাক্তন ও বর্তমান সাংসদ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এখানে অবস্থান করছেন। বড় বৈঠকের জন্য এখনও বাইরে হল ভাড়া নেওয়া হয়, তবে ৩০-৩৫ জনের বৈঠক এই অফিসেই সম্পন্ন হয়। অফিস খোলার নির্দিষ্ট সময় নেই—প্রয়োজন অনুযায়ী নেতারা আসেন, আলোচনা করেন, পরিকল্পনা তৈরি করেন। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া এ কার্যক্রম সম্ভব নয় বলেই রাজনৈতিক মহলের মত।

যদিও দলীয় সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি দাবি করেছেন যে মূল দল এখনও বাংলাদেশ থেকেই পরিচালিত হচ্ছে, তবুও বাস্তবে রাজনৈতিক নির্দেশনা ও কৌশল নির্ধারণের বড় অংশই হচ্ছে ভারত থেকে। শেখ হাসিনা দিল্লির কাছাকাছি অবস্থান করছেন, আর কলকাতা-সংলগ্ন অঞ্চলে রয়েছেন শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই। দলীয় যোগাযোগ চলছে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ভার্চুয়াল মিটিং এবং লাইভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে। মাঝে মাঝেই এসব অনলাইন আয়োজনে যোগ দেন শেখ হাসিনা নিজেও।

আরও পড়ুনঃ US Trade Impact: ট্রাম্পের শুল্ক-ঝড়! ৫০% ট্যারিফে থমকে গেল মার্কিন অর্ডার, বিপদে ভারতীয় রপ্তানি!

মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দেশে গ্রেপ্তার ও হামলার শিকার হলেও শীর্ষ নেতারা কেন ভারতে—এই প্রশ্ন উঠছে সামাজিক মাধ্যমে। প্রাক্তন সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ এর জবাবে ১৯৭১ সালের প্রবাসী সরকারের উদাহরণ টেনে বলেন, বিদেশে থেকে সংগঠিত হওয়াই এখন কৌশল। অর্থায়ন আসছে দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে, তবে অনেকেই এখন সীমিত আয়ে জীবনযাপন করছেন। কবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানাননি ওবায়দুল কাদের—তবে রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পের কথা স্পষ্ট করেছেন তিনি। আর এই নতুন ‘পার্টি অফিস’ যেন আওয়ামী লীগের বিদেশে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

RELATED Articles