কোনও দামী জিনিসপত্র নয়, রাস্তাই চুরি করে নেওয়ার ঘটনা ঘটল দেশেরই এক এলাকায়। নির্মিত রাস্তার সমস্ত সামগ্রী চুরি করে নিয়ে বাড়ি চলে গেলেন গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের জেহানাবাদ জেলায়।
জেলা সদরের সঙ্গে গ্রামের সংযোগ বাড়ানোর জন্য রাস্তার নির্মাণ শুরু করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী গ্রাম সড়ক প্রকল্পের অংশ ছিল এই নির্মাণ। মাস দুয়েক আগে আরজেডি বিধায়ক সতীশ কুমার এই রাস্তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আংশিকভাবে নির্মিত ৩ কিলোমিটার রাস্তার জন্য নির্মাণ সামগ্রী চুরি হয়ে গিয়েছে বলে খবর মেলে।
অভিযোগ, আউদান বিঘা গ্রামের বাসিন্দারা এই রাস্তা তৈরির নানান নির্মাণ সামগ্রী অর্থাৎ কংক্রিট, বালি ও পাথরের চিপস নিয়ে বাড়িতে নিয়ে চলে যান। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়। গ্রামবাসীরা সমস্ত সামগ্রী নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সতীশ কুমার বলেন “আমরা প্রায় দুই মাস আগে এই সড়ক প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি এবং সে অনুযায়ী নির্মাণকাজ চলছিল। ঠিকাদারদের আংশিক কাজ শেষ হলেও এর সিমেন্টেশন শুরু হয়নি। রাস্তার নির্মাণ সামগ্রী গ্রামের কিছু লোক চুরি করেছে”। জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় মখদুমপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
তবে বিহারে এই ঘটনা প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বিহারের বাসিন্দারা নির্মান জিনিসপত্র চুরির সঙ্গে জড়িত ঘটনার নিদর্শন আগেও মিলেছে। এর আগে বিহারের সমস্তিপুরে চোরেরা প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ চুরি করেছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে এমন অদ্ভুত চুরির ঘটনাটি সামনে আসে। রেলওয়ে বিভাগ কর্তৃক একটি সরকারি তদন্তও হয় এই ঘটনায়। জানা যায়, লোহাট চিনিকলকে পান্ডৌল রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত করা ২ কিলোমিটার রেলপথ চুরি করেছিল সমস্তিপুর জেলার অজ্ঞাত চোরেরা।
এবার এই রাস্তা চুরির ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটিজেনরা। কেউ লিখেছেন, “সরকার বিহারে গ্রামবাসীদের জন্য একটি রাস্তা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল, গ্রামবাসীরা রাস্তার সামগ্রী লুঠ করতে শুরু করে এবং বাড়িতে নিয়ে যায়… আমার বিহারকে কখনও পরিবর্তন করবেন না”। আবার কেউ লিখেছেন, “বিহারী আপনে গাঁও কে বিকাশ পে ভারি”।





