যিনি রক্ষক তিনিই ভক্ষক! ফের আরেকবার বাংলার এই প্রাচীন প্রবাদ সত্যি প্রমাণিত হলো কান্তা প্রসাদ এর জীবনে। যদিও তিনি চুপ করে থাকার মানুষ নন তাই থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন নিজের রক্ষক এর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটা কী জানবার জন্য নিশ্চয়ই উৎসুক হচ্ছেন। ৮ই অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া বাবা কা ধাবার কথা মনে আছে? দিল্লির মালভিয়া নগরে এক বৃদ্ধ মানুষের খাবার দোকান যা ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। মাছি তাড়ানো দোকান, এক রাতে রমরমিয়ে চলতে শুরু করে সামান্য একটা সোশাল মিডিয়া পোস্টের দৌলতে। কিন্তু এবার যে এই পোস্টটি করেছিলেন তার বিরুদ্ধেই থানায় এফআইআর ঠুকে দিলেন বাবা কা ধাবার মালিক কান্তা প্রসাদ। অভিযোগ উঠল আর্থিকভাবে কান্তা প্রসাদের সঙ্গে প্রতারণা করার।
বাবা কা ধাবার মালিক ৮০ বছরের বৃদ্ধ কান্তা প্রসাদ দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগরের থানায় অভিযোগ জানিয়েছেন, গৌরব ওয়াসনের নামে। তিনি একজন ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার এবং গৌরবই বাবার দোকানের ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলো। বাবার অভিযোগ যে, গৌরব তার নাম করে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ফান্ড কালেক্ট শুরু করেছিলেন জনসাধারণের থেকে তার একটা টাকাও তিনি বাবাকে দেননি। তিনি নিজের এবং পরিবারের মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস দিয়েছিলেন টাকা সংগ্রহের জন্য।
গৌরব ওয়াসন ইনস্টাগ্রামে বেশ পরিচিত মুখ এবং তিনি এরকমই নিম্নবিত্ত গরিব মানুষের সঙ্গে সাধারণ মানুষের পরিচয় করার এবং তাদেরকে সাহায্য করার জন্য ক্রাউডফান্ডিং করেন। বাবা কা ধাবার ভিডিওটা সে রকমই ছিল কিন্তু ভাগ্যক্রমে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় এবং তার বলিউড সেলিব্রিটিদের চোখে পড়ে এবং তারাও সেটি শেয়ার করায় ভিডিওটির জনপ্রিয়তা অন্য মাত্রায় পৌঁছায়। লোকজন খেতে পৌঁছে যায় সেই দোকানে। বিভিন্ন সংস্থা বাবা কা ধাবাকে প্রোমোট করতে শুরু করেন বিভিন্ন ভাবে। রোজগার বেড়ে যায় বাবার। তবে এখানেও কি প্রতারণার ছায়া? গৌরব কি সত্যিই কান্তাপ্রসাদের প্রাপ্য টাকা আত্মসাৎ করেছেন?
যদিও গৌরব বলছেন যে তিনি সমস্ত টাকা বাবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে দিয়েছেন।তিনি বলেন, “আমি যখন ভিডিওটি শ্যুট করেছি তখন আমি জানতাম না যে এটি ভাইরাল হয়ে যাবে। বাবার যাতে অসুবিধা না হয়, তাকে যাতে হয়রানির মুখে না পড়তে হয় তাই আমার ব্যাংকের বিবরণ দিয়েছিলাম।২৭ অক্টোবর তিনটি লেনদেনে টাকা শেয়ার করেছি। দুটি চেকে ১,০০,০০০ এবং ২,৩৩,০০০ টাকা এবং ব্যাঙ্কের অনলাইন ট্রান্জাকশনের মাধ্যমে ৪৫,০০০ টাকা। আমি সেই ব্যাংক ট্রানজাকশন এর স্টেটমেন্টও শেয়ার করেছিলাম সোশ্যাল মিডিয়ায়।যদিও গোটা ঘটনাটি আসলে কী হয়েছে তা পুলিশের তদন্তে বোঝা যাবে। তবে কান্তা প্রসাদের অভিযোগে বেশ চমকেছে গোটা সোশ্যাল দুনিয়া।





