স্ত্রীর সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, বিয়ের পর সবকিছুতেই রয়েছে স্বামীর অধিকার! জানিয়ে দিল হাইকোর্ট!

বিশ্বব্যাপী নারী জাতির ওপর নির্যাতন একটি অতি পুরনো এবং চলমান সমস্যা। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, বৈষম্য, এবং নিপীড়ন কেবল শারীরিকই নয়, মানসিকভাবেও তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। কোথাও বা তাঁরা যৌন নির্যাতনের শিকার, কোথাও বা পরিবারিক অশান্তি বা সামাজিক চাপের কারণে দুঃসহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। বিশেষ করে, বিয়ের পর নারীরা নানা ধরনের নিপীড়ন সহ্য করতে বাধ্য হন। এমনকি অনেক জায়গায়, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে, নারীর অধিকারের বিষয়ে সচেতনতা এবং আইনগত নিরাপত্তা অনেকটাই কম।

নারী জাতির প্রতি নির্যাতন শুধু অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিবাহিত নারীরাও সমাজে প্রতিনিয়ত সহিংসতা ও অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। গৃহকর্মে নিপীড়ন, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের ঘটনা বাড়ছে, যা একসময় গৃহবন্দী বা ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে গ্রহণ করা হত। তবে সম্প্রতি নারীর অধিকারের জন্য আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এই সমস্যা কিছুটা আলোচনায় এসেছে। কিন্তু তারপরও এর সমাধান এখনো পুরোপুরি হয়নি, বরং বহু ক্ষেত্রেই নারীরা ভয়াবহ শোষণ এবং নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

বিবাহিত নারীদের উপর অত্যাচার একটি অপরাধ—এটি আজকের যুগে সবাই জানে। তবে এর পরেও আমাদের সামনে এমন কিছু ঘটনা উঠে আসে যা সাধারণ মানুষকে চিন্তা করতে বাধ্য করে। বিশেষ করে, নারীর সম্মতি ও অধিকার নিয়ে যে আইনগত দিকগুলো রয়েছে, তা কখনও কখনও সমাজের বাস্তবতার সাথে মেলে না। বিশেষ করে, যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের বিষয়গুলো নানা সামাজিক ও আইনি জটিলতায় জড়িত থাকে। এর ফলে, নারীদের অধিকারকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে সমাজের অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা জোরালো হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি, ছত্তীসগড় হাই কোর্ট জানিয়েছে যে, যদি স্ত্রী বয়স ১৫ বছরের কম না হয়, তবে স্বামীর সঙ্গে জোর করে অপ্রাকৃতিক যৌনতায় লিপ্ত হলেও, তা ধর্ষণের মামলা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। আদালতের একক বেঞ্চের বিচারপতি নরেন্দ্র কুমার ব্য়াস বলেন, “স্বামীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে স্ত্রীর সম্মতির গুরুত্ব নেই, যদি স্ত্রীর বয়স ১৫ বছরের বেশি হয়।” আদালতের মতে, স্বামী-স্ত্রী যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অপ্রাকৃতিক যৌনতার ক্ষেত্রে, স্ত্রী যদি সম্মতি না দেয়, তাও এটি অপরাধ হিসেবে ধরা হবে না, যদি তার বয়স ১৫ বছরের কম না হয়।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে একটি অপ্রাকৃতিক যৌনতার ঘটনার অভিযোগে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এর ফলে, স্ত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ পর্যন্ত, তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে, ওই মহিলা দাবি করেন যে, তার স্বামী তাকে জোর করে অপ্রাকৃতিক যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। তবে আদালত তার এই অভিযোগ গ্রহণ করেনি, কারণ স্ত্রীর বয়স ১৫ বছরের বেশি ছিল। ফলে, আদালত জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা অপ্রাকৃতিক যৌনতার মামলা দায়ের করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ গ্ল্যামারের আড়ালে বিপদজনক ব্যবসা! অভিনেত্রীর ন*গ্ন ছবি বিক্রি করে পকেট ভরাতেন ভাই!

এই রায়টি সমাজে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং জনসাধারণের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এটা কি আদৌ সঠিক? যেখানে একদিকে নারী জাতির প্রতি সহিংসতা এবং নির্যাতন বন্ধ করার জন্য আইন গড়ে উঠছে, সেখানে এই ধরনের রায় সমাজে নারীর অধিকার নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করেছে।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles