অসুস্থ বাবাকে নিয়ে সাহায্যের আশায় ভ্যান চালিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরল বছর ১১-এর ঝিলিক, সাহায্য করতে এগিয়ে এলেন দেব

সবসময়ই নানান অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এসেছেন টলি অভিনেতা তথা সাংসদ দেব। এবারেও এর অন্যথা হল না। বাবাকে নিয়ে ভ্যানে করে সাহায্যের আশায় ঘুরে বেরিয়েছিল ১১ বছরের ঝিলিক। সেই দৃশ্য তুলে ধরে জি ২৪ ঘণ্টা চ্যানেল। সেই ভিডিও দেখেই ঝিলিকের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন দেব।

দেব জানান যে ঝিলিকের বাবার চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য সাহাজ্জন করবেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “সকলে যথাসাধ্য চেষ্টা করলেই হাসি ফুটবে ছোট্ট ঝিলিকের মুখে। সকলের এগিয়ে আসা উচিত”।। ঝিলিকের কথা তাঁর এবং দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানালেন জি ২৪ ঘণ্টাকে। পাশাপাশি দেব জানালেন, তিনি নিজে মেয়েটির সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।

উলুবেড়িয়া থানার হিরাপুর দক্ষিণ রামচন্দ্রপুরের বাসিন্দা সুশান্ত মণ্ডল। তাঁর বয়স ৫০ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ তিনি। সংসারের উপার্জনের একমাত্র তিনিই ভরসা। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য তাঁর উপার্জন বন্ধ।

তাঁর পরিবারের একমাত্র ভরসা তাদের একমাত্র মেয়ে ১১ বছরের ঝিলিক। একদিকে সংসারের অভাব, অন্যদিকে বাবার চিকিৎসার খরচ, সব চালাচ্ছে ওই ঝিলিক। যে বয়সে বাচ্চারা খেলাধুলা, পড়াশোনা করার সময়, সেই বয়সে সে এখন সংসারের খরচ ও বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাচ্ছে ছোটো ঝিলিক।

বাবার ভ্যানের শয্যাশায়ী বাবাকে চাপিয়ে নিজে ভ্যান চালিয়ে উলুবেড়িয়া শহরে নিয়ে আসে ঝিলিক। সঙ্গে তাঁর মা। সাহায্য চায় মানুষের কাছে। যদি সহৃদয় ব্যক্তি তাদের সাহায্য করে। কিন্তু কোনও লাভ হয় না। উপরন্তু সারাদিন ভ্যান চালিয়ে হাতে-পায়ে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে বাড়ি ফেরে ঝিলিক। বর্তমানে স্থানীয় একটি স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়ে ঝিলিক।

এই বিষয়ে জি ২৪ ঘণ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেব বলেন, “বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রথমেই ধন্যবাদ জানাব জি ২৪ ঘণ্টাকে, এই ঘটনা তুলে ধরার জন্য। এখন পড়াশোনা করার বয়সে মেয়েটিকে এই কাজ করতে হচ্ছে তা সত্যিই দুঃখজনক। খুবই খারাপ লাগছে। আমি আমার পক্ষ থেকে চেষ্টা করব। যতটা সম্ভব আমি সাহায্য করব। আমি তো ভগবান নয় যে একেবারে ওর বাবাকে সুস্থ করে তুলতে পারব। তবে আমার তরফ থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেব। চেষ্টা করব, যাতে ঝিলিক স্কুলে যেতে পারে। ওকে যাতে আর ভ্যানে করে বাবাকে নিয়ে ঘুরতে না হয় সেই চেষ্টা করব। যেটা হয়ে গেছে সেটা তো আমি বদলাতে পারব না। তবে আগামীদিনে ওর পাশে থাকব। তবে একজনের পক্ষে সম্ভব নয়, সবাইকে একসঙ্গে ওর পাশে থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি ভগবান মন্দিরে নয় মানুষের মনে থাকে। ঝিলিকের এখন প্রয়োজন মানুষের। আমি ও সরকার ঝিলিকের পাশে থাকব। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, যেন সবাই ঝিলিকের সাহায্যে এগিয়ে আসে”।

RELATED Articles