পোস্টার বিতর্কে বিস্ফোরক দিলীপ! শুভেন্দু-সুকান্তকেই কি নিশানা করলেন বিজেপি নেতা?

বাংলার রাজনীতিতে প্রতিদিনই নতুন নতুন চমক দেখা যায়। নির্বাচনের আবহ হোক বা দলীয় সংঘাত, নেতাদের কথাবার্তা ও তাঁদের কার্যকলাপ মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে চলে আসে। বিশেষ করে বিজেপির (BJP) মতো বিরোধী শিবিরে যখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে, তখন সেই বিতর্ক আরও উস্কে যায়। বাংলার রাজনীতিতে বরাবরই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে রাজনীতি করেছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। একসময় বিজেপির রাজ্য সভাপতি থাকা অবস্থায় তিনি যে ধরনের বক্তব্য রাখতেন, তাতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি হত। তবে সাম্প্রতিক কালে তাঁকে একটু কোণঠাসা হয়েই থাকতে হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের ধার কমেনি, কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কী হতে চলেছে, তা নিয়ে জল্পনা ছিলই।

বাংলার বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ কিছুদিন ধরেই চাপা টানাপোড়েন চলছে। রাজ্যের ২৫টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিদের নাম ঘোষণা হলেও, এখনও ১৮টি জেলার নেতৃত্ব স্থির হয়নি। ফলে দলে একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কে হতে চলেছেন রাজ্যের পরবর্তী সভাপতি, সেই নিয়েও চলছে জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে দিলীপ ঘোষ ফের নিজের পুরনো মেজাজে ফিরেছেন। বিজেপির ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচি নিয়ে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর সেখান থেকেই তিনি দলের অন্দরমহলের উদ্দেশে একের পর এক বার্তা ছুড়ে দিচ্ছেন।

দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ

সাম্প্রতিক ঘটনায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার তিনি কাটোয়ার গোপীনাথের মেলা থেকে একটি ধারালো দা কিনে বলেছিলেন, “এক দা-এ অনেক কাজ হয়ে যাবে!” যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়। এরপর কৃষ্ণনগরের ‘চায়ে পে চর্চা’ কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার কাউকে দরকার পড়ে না। আমি নিজের ক্ষমতায় রাজনীতি করি!” যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম নেননি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্যের নিশানা শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদারের দিকেই ছিল। তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন যে, তাঁকে দলের মধ্যে কেউ কোণঠাসা করতে পারবে না। বরং তিনি নিজের জনপ্রিয়তার ওপর ভর করেই এগিয়ে যাবেন।

পোস্টার বিতর্ক ও নেতৃত্বের দৌড়

বিজেপির অন্দরমহলে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়, বাংলায় দলের নেতৃত্ব কে সামলাবেন? এই প্রশ্ন ঘিরেই পোস্টার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলায় পোস্টার পড়ছে, যেখানে স্পষ্টভাবে ক্ষমতা প্রদর্শনের ইঙ্গিত মিলছে। এই অবস্থায় দিলীপ ঘোষের মন্তব্য আরও জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে তিনি কি সত্যিই ফের রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে আসতে চাইছেন? নাকি তিনি বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করছেন? বিশ্লেষকদের মতে, দিলীপ ঘোষ বোঝাতে চাইছেন, তিনি এখনও দলে যথেষ্ট প্রভাবশালী, এবং তাঁকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুনঃ আরজি কর – কাণ্ড এবার বড়পর্দায়! পায়েল সরকার নির্যাতিতার চরিত্রে, চলচ্চিত্র ‘প্রশ্ন’ উন্মোচন করবে কোন অজানা সত্য?

 

ইফতার বিতর্কে নতুন তর্ক

একের পর এক মন্তব্য করে বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলার পর এবার ইফতার প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “কেউ কখনও চন্দন, কখনও টুপি পরে মেকি মুসলমান সেজে ইফতার পার্টিতে যোগ দিচ্ছে! এটা মুসলিমদের জন্য লজ্জার।” তাঁর এই বক্তব্য ঘিরেও শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির একাংশ যেখানে ইফতারে অংশ নিচ্ছেন, সেখানে দিলীপ ঘোষের এমন মন্তব্যে স্পষ্টতই দলীয় বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে। তাহলে কি বিজেপির অন্দরেই মতপার্থক্য বাড়ছে? দিলীপ ঘোষ কি ফের নিজেকে সামনে আনতে চাইছেন? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই। তবে একথা স্পষ্ট, তিনি যে এখনও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র, তা আবারও বুঝিয়ে দিলেন।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles