কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ছাড়া সমগ্র বাংলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা বা WBSEDCL, সাধারন গৃহস্থ বাঙালি থেকে ব্যবসায়ী এবং বাংলার বিরাট সংখ্যক কৃষিজীবী মানুষ বিদ্যুতের বিষয়ে এই সংস্থার উপর ভরসা করে থাকে। এই করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের সময় বেশ কিছু STW (গভীর নলকূপ)সংযোগের ক্ষেত্রে ভুয়ো বিলের অভিযোগ সামনে এসেছে। কৃষিকাজে সেচের জন্য এই গভীর নলকূপগুলো অপিহারর্য, এমনিতেই অতিমারীর প্রকোপে অন্যান্য পেশার মানুষের মতো বাংলার কৃষক সম্প্রদায়ও আর্থিক সমস্যায় রয়েছেন, তারপর অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপায় অনেকেই বিপদে পড়েছেন। স্থায়ী সংযোগ ও সঠিক মিটার থাকা সত্বেও বিদ্যুৎবন্টন সংস্থার গাফিলতিতে নিয়মিত মিটার রিডিং নেওয়া হয়না বলে অভিযোগ। ফলে কখনো গড় বিল, আবার কখনো বা অ্যাডজাস্টমেন্টের নামে অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপছে চাষীর ঘাড়ে।
মুর্শিদাবাদের এক কৃষক জানালেন লকডাউনের সময় তাঁর বিলে ২৭০ ইউনিট অ্যাডজাস্টমেন্ট বা অতিরিক্ত বিল এসেছে। এই অতিমারীর সময় একজন সাধারন কৃষকের পক্ষে যা দেওয়া কষ্টকর। মিটার থাকা সত্বেও সঠিক রিডিং না নেওয়ায় পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ও গ্রাহকের মধ্যে অস্বচ্ছতা ও অবিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরী হচ্ছে। একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি আধিকারিক এবং বিদ্যুৎবন্টন সংস্থার জেলা আধিকারিককে জানিয়েও কোন সুরাহা না হওয়ায় ঐ কৃষক “বাংলা পক্ষ” সংগঠনকে বিষয়টি জানান।
বাংলা পক্ষ সংগঠনের নেতৃত্বের পক্ষে জানানো হয় যে, তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন, অন্যান্য জেলা থেকেও এইধরনের অভিযোগ এসেছে। এই অতিমারীর সময়ে কৃষিজীবী বাঙালির সঙ্গে এইরকম অমানবিক আচরণ, বাংলার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গীর পরিপন্থী। সংগঠনের তরফে ইতিমধ্যেই বিদ্যুৎবন্টন সংস্থার সর্বোচ্চ আধিকারিককে বিষয়টি মেল করে জানানো হয়েছে, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নজরেও আনা হয়েছে। বিদ্যুৎবন্টন সংস্থার বিল তৈরীতে যাতে স্বচ্ছতা থাকে, সংগঠনের তরফে সেই দাবি জানানো হয়েছে।
গৃহস্থের সাধারন সংযোগের ক্ষেত্রেও এই সমস্যা রয়েছে বিদ্যুৎবন্টন সংস্থার দিক থেকে। মিটার খারাপ হলে, নতুন মিটার কেনার স্বাধীনতা গ্রাহকের থাকে না। ফলে যতোদিন না সংস্থার তরফে নতুন মিটার দেওয়া হয় ততোদিন গড় বিল দেওয়া হয়, এরফলে অনেকসময় গ্রাহককে ন্যায্য বিলের থেকে বেশী টাকা দিতে হয়। এই ক্ষোভ বিদ্যুৎবন্টন সংস্থার গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের। তাছাড়া বিল দিতে না পাড়ায়, লাইন কাটার ক্ষেত্রেও সঠিক নীতি না থাকায় একশ্রেণীর গ্রাহক যেমন সুবিধা নেয় তেমনই একটা বড় অংশের গ্রাহক সমস্যায় পড়েন, যাঁরা মূলত অর্থনৈতিক ভাবে অনগ্রসর। এরফলে অনেকেই বিদ্যুৎ চুরির পথে যায়, ও শেষে ক্ষতি হয় বন্টনসংস্থার। সংস্থার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা এইভাবে সংস্থাকে অলাভজনক দেখিয়ে একদিন বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে। বাংলা পক্ষ নেতৃত্ব অবশ্য এখনই এমন আশঙ্কা না করলেও, বিদ্যুৎবন্টন সংস্থার গ্রাহক পরিষেবা কে আরও আধুনিক ও স্বচ্ছ করে তোলার দাবি জানিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই কলকাতা ও পাশ্ববর্তী অঞ্চলে CESC র ব্যাপক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগঠন আন্দোলন শুরু করেছে, রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা এইসব অস্বচ্ছতা দূর না করলে ভবিষ্যতে গ্রামবাংলাতেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়বে।
লেখক- মনোজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়
সহযোদ্ধা, বাংলা পক্ষ
প্রতিবেদনটির মতামত সম্পূর্ণ লেখকের ব্যক্তিগত





