ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান সংসদ সদস্য চন্দ্র আর্য আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডার লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের জন্য তার প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। জাস্টিন ট্রুডোর প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা হওয়ার পরেই মনোনয়ন পেস করেছেন তিনি। ২০১৫ সাল থেকে অটোয়াতে নেপিয়ান রাইডিং-এর প্রতিনিধিত্ব করে, আর্য ৯ই জানুয়ারী, ২০২৫-এ তার বিড ঘোষণা করেছিলেন, জাতিকে পুনর্গঠন করতে এবং ভবিষ্যতের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে একটি “ছোট, আরও দক্ষ সরকার” নেতৃত্ব দেওয়ার অভিপ্রায় প্রকাশ করেছিলেন। আবারো কানাডার সংসদে নিজের মাতৃভাষা কন্নড়ে বক্তব্য প্রকাশ করায় চর্চায় তিনি।
ভারতের কর্ণাটকের টুমকুর জেলায় জন্মগ্রহণকারী আর্য ৪৩ বছর বয়সে কানাডায় চলে আসেন। তার রাজনৈতিক কর্মজীবনের আগে, তিনি একটি উচ্চ-প্রযুক্তি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ফার্মে একজন নির্বাহী হিসাবে কাজ করেছিলেন। ২০২২ সালে, তিনি কানাডার হাউস অফ কমন্সে তার মাতৃভাষা কন্নড় ভাষায় কথা বলার জন্য প্রথম সংসদ সদস্য হয়ে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন।
এর আগেও দেখা গেছে ট্রুডোর জনসমর্থন তলানিতে এসে ঠেকেছে, যার পরে সংখ্যালঘু সরকার চালাচ্ছিলেন তিনি। তবে আগামী নির্বাচনের আগে তিনি লিবারেল পার্টির প্রধানের পদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এর সঙ্গেই তিনি জানান লিবারেল পার্টির প্রধান নির্বাচিত হলে তবেই তিনি নিজের প্রধানমন্ত্রীর গদি ত্যাগ করবেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে লিবারেল পার্টির প্রধানই হবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
কানাডার ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ট্রুডো। প্রায় এক দশক কানাডায় চলেছে তার শাসনকাল। গত ২০১৩ সালে ট্রুডো লিবারেল পার্টির প্রধান হয়েছিলেন, সেই সময় দলের অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে ৩য় স্থানে নেমে এসেছিলো। কিন্তু সেখান থেকেই ২০১৫ সালে ট্রুডোর হাত ধরেই লিবারেল পার্টি এসেছিলো ক্ষমতায়। তবে ক্রমেই তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে, আসন্ন নির্বাচনে তার হার নিশ্চিত ছিল। তার আগে নিজেই পথ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন ট্রুডো। এই সুযোগেই কানাডার পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রতিযোগিতায় সামিল হন চন্দ্র।
আরও পড়ুনঃ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে চতুর্দিক! শীতের উৎপাতে ব্যতিব্যস্ত বাংলা! কি বলছে আবহাওয়া দপ্তর?
উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে ভারতে শিখ বিরোধী দাঙ্গাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছিল কানাডার সংসদে। ট্রুডো যেখানে ছিলেন খলিস্তানিদের ‘সমর্থক’, সেখানেই চন্দ্র আবার খলিস্তানি ‘বিরোধী’ হিসেবে পরিচিত। বিগত কয়েক বছর ধরে কানাডার রাজনীতিতে খলিস্তানিদের প্রভাব বেড়েছে পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ দুইভাবেই। এই সময় কানাডার সংসদে এই ধরনের প্রস্তাব ছিল প্রত্যাশিত তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখান করাটাই কিছুটা অবাক করে দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল, এবং সেটাই করে দেখান কানাডিয়ান সাংসদ চন্দ্র আর্য্য। পরে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে চন্দ্র দাবি করেন, এই প্রস্তাব রাখার সময় সংসদে উপস্থিত সাংসদদের মধ্যে একমাত্র তিনিই ছিলেন যিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন যেই কারণে এই প্রস্তাবটি আটকে গিয়েছিলো।





