বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তখন সাধারণ মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন রান্নার গ্যাস কি ঠিকমতো মিলবে? বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতি সেই দুশ্চিন্তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ঘরের রান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন সবকিছুর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই জ্বালানির সরবরাহ নিয়েই এখন কৌতূহল আর উদ্বেগ দুই-ই তৈরি হয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে গ্যাস আমদানিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত এই অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সরবরাহে বাধা তৈরি হওয়ায় বিকল্প খোঁজার প্রয়োজন দেখা দেয়। আর সেই সময়েই সামনে আসে এক ‘দূরের বন্ধু’র নাম।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা এখন ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। লিয়োনেল মেসি-দিয়েগো মারাদোনার দেশের তরফে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রায় ৩৯ হাজার টন এলপিজি পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ২২ হাজার টন ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছে গিয়েছে। এমনকি মার্চের শুরুতেই আরও ১১ হাজার টন গ্যাসবাহী জাহাজ ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরে এই পরিমাণ ৫০ হাজার টনে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই জোগান সহজ নয়। আর্জেন্টিনার বাহিয়া ব্লাঙ্কা বন্দর থেকে গুজরাতের দাহেজ বন্দরের দূরত্ব প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার। এতটা পথ জলপথে পাড়ি দিতে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনই বাড়ছে পরিবহণ খরচও। তবুও বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে এই পথই ভরসা হয়ে উঠেছে ভারতের জন্য।
আরও পড়ুনঃ WB Assembly Election 2026: অন্য দলে যোগের ইঙ্গিত? টিকিট না পেয়ে মনোজ তিওয়ারির অভিমানে তুঙ্গে জল্পনা!
ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো অগাস্টিন কওসিনো জানিয়েছেন, তাঁদের দেশে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ভূমিকা নিতে তারা প্রস্তুত। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও জানিয়েছেন, ভারত এখন ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করছে। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও বিকল্প পথ খুঁজে নিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি।





