রাজনীতির ময়দানে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ মানেই নতুন সমীকরণ, নতুন চমক আর তার সঙ্গে জুড়ে যায় কিছু অপ্রত্যাশিত মোড়। এবারের নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম নয়। দীর্ঘদিন ধরে দলের মুখ হিসেবে পরিচিত কিছু নাম হঠাৎ তালিকার বাইরে চলে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে জল্পনা। বিশেষ করে যাঁরা একসময় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই থাকে।
এই আবহেই সামনে এসেছে এক বড় নাম, মনোজ তিওয়ারি। একুশের নির্বাচনে যাঁকে ঘিরে ব্যাপক চর্চা হয়েছিল, সেই প্রাক্তন ক্রিকেটার ও মন্ত্রী এবারের প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাননি। হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্র থেকে তাঁর বদলে প্রার্থী করা হয়েছে বালির বিধায়ক রানা চ্যাটার্জিকে। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা, যা ধীরে ধীরে আরও জোরদার হচ্ছে।
প্রথমে নীরব থাকলেও, এবার নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মনোজ। তাঁর কথাতেই উঠে এসেছে অভিমান এবং হতাশার সুর। তিনি জানিয়েছেন, অন্য রাজনৈতিক দল থেকে তাঁর কাছে প্রস্তাব এসেছে। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, পরিবার বিশেষ করে স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেই ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজনৈতিক অন্দরে তুমুল চর্চা।
নিজের অতীত লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে মনোজ বলেন, খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজকের জায়গায় পৌঁছেছেন। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর দাবি, নিজের এলাকায় গত পাঁচ বছরে তিনি যে কাজ করেছেন, তা মানুষ জানেন। সেই জায়গা থেকেই টিকিট না পাওয়াটা তাঁর কাছে স্বাভাবিকভাবেই কষ্টের।
আরও পড়ুনঃ RG KAR medical hospital: বিপর্যয়ের প্রশিক্ষণ ছাড়াই নিয়োগ! আরজি কর কাণ্ডে সামনে এল ভয়ং*কর গাফিলতির ছবি!
তবে এই ঘটনা একা নয়। এবারের প্রার্থী তালিকায় আরও কয়েকজন বিদায়ী মন্ত্রী ও বহু বিধায়ক জায়গা পাননি। ফলে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আগামী দিনে মনোজ তিওয়ারি আদৌ অন্য দলে যোগ দেবেন কিনা, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর মন্তব্যে যে সম্ভাবনার দরজা খোলা রয়েছে, তা বলাই যায় আর সেখানেই জমে উঠছে আগামী দিনের রাজনীতির নতুন অঙ্ক।





