চীন নাম শুনলেই পাকিস্তানের পা যেনও বেড়েই থাকে। পাকিস্তানকে উঠতে-বসতে সবকিছুতেই এখন নিয়ন্ত্রণ করছে শি জিনপিং এর দেশ। কিন্তু এহেন পাক প্রদেশেই শাসন কায়েম করার আগে ইমরান খান স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন ‘নয়া পাকিস্তান’ গড়ার। কিন্তু, সঠিক অর্থে তা পাক সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জনগণের স্বাধীনতার বিনিময়ে বেজিং-এর স্বপ্নপূরণ করা ব্যতীত অন্য কিছুই নয় বলে অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি এক পাক সংবাদমাধ্যমেই দাবি করা হয়েছে, চীন সিপিইসি, অর্থাৎ চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর-এর মাধ্যমে পাকিস্তানের রাজনীতি, অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনা করেছে।
সুত্রের খবর পাকিস্তানের গদর বন্দরে বিনিয়োগ করার দিন থেকেই চীন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছিল। নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় থাকাকালীন, পাক সরকার বেজিংয়ের তরফে আসা এই ধরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ইমরান খান তা গ্রহণ করেছেন। যেমন অনেকটা নেপালে করছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। আর তাইতো নেপাল আফগানিস্তানকে পাকিস্তানকে আদর্শ মেনে চলতে উপদেশ দিচ্ছে চীন। ২০১৬ সালে ইমরান খান সরকারের সঙ্গে চীন সিপিইসি নিয়ে এমন একটি চুক্তি করেছে, যার ফলে সিপিইসি-র কাজ পাকিস্তানে চললেও, তার পরিকাঠামো এবং বিদ্যুৎ-উত্পাদন প্রকল্পগুলির নিয়ন্ত্রণ সরাসরি বেজিং-এর হাতে চলে গিয়েছে। এই চুক্তি এতটাই গোপনীয় যে অর্থ সম্পর্কিত পাক সেনেটের স্থায়ী কমিটিকেও তা দেখানো হয়নি।
তবে কেনও এই চুপি চুপি কাজ? আসলে এর পিছনে রয়েছে বিআরআই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০০ সালের মধ্যে বিশ্বের বাজারের অর্থনীতির উপর চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কায়েমের বৃহত পরিকল্পনা। তুখোড় জিনপিং জানেন বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এ চিন লাভবান হলেও সহযোগী দেশগুলির লাভের লাভ কিছু হবে না। এই অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশের মানুষ তাঁর কৌশল জেনে গেলে এই চীনা স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না।
নয়া চুক্তি অনুসারে সিপিইসি কর্তৃপক্ষই সিপিইসি প্রকল্প সম্পর্কে সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আর এই সিপিইসি কর্তৃপক্ষ তৈরি হবে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির অনুমোদিত পাক প্রতিনিধিরা। এই কর্তৃপক্ষের হাতে পাকিস্তানের যে কোনও সরকারি পদাধিকারীর বিরুদ্ধে সিপিইসি সংক্রান্ত কোনও তদন্ত করার, এমনকি জরিমানা আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই পদাধিকারীদের মধ্যে পাক রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী-ও রয়েছেন।
অর্থাৎ ইমরান খান-ও, শি জিনপিং-এর আদেশ মানতে বাধ্য। তাহলে কেন ইমরান খান এই প্রস্তাব মানলেন? এই ক্ষেত্রে দেখতে হবে বিআরআই প্রকল্পের জন্য চীন কোন দেশগুলিকে বেছে নিয়েছে। দেখা যাচ্ছে চীন এমন সব দেশের সঙ্গেই এই প্রকল্পগত চুক্তি করেছে যারা ইতিমধ্যেই ঋণের জালে জর্জরিত। পাকিস্তানেরও অর্থনীতির প্রভূত উন্নতি হয়েছে গত কয়েক বছরে। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে ক্ষমতায় থাকার এছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা ছিল না পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার