করোনার (Coronavirus) জন্মলগ্ন থেকেই বলা হয়ে আসছে এই ভাইরাসের আঁতুড়ঘর উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি (Wuhan institute of virology)। জার্মানি, আমেরিকা বিশ্বের তাবড় শক্তিধর দেশগুলো বারবার আঙ্গুল তুলেছে চীনের দিকে। আর এবার ফের করোনার জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ওই দেশেরই ভাইরাস গবেষক (Virologist) লি মেং ইয়ান (Li-Meng Yan)।
বছরের শুরু থেকে করোনা (Coronavirus) অতিমারীর(Pandemic) জেরে বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। স্তব্ধ হয়ে গেছে মানুষের সাধারণ জীবন যাপন। ক্ষতির মুখে বিশ্ব অর্থনীতি (World economy)। আর এই টালমাটাল অবস্থার জন্য এক এবং একমাত্র দায়ী চীন (China)।
আর এবার এই দাবিকেই আরও জোরালো করলেন এই গবেষক। এক জনপ্রিয় টক-শোতে এসে তিনি দাবি করলেন, নোভেল করোনা ভাইরাসের উৎসস্থল চীনা প্রশাসনের তত্বাবধানে থাকা ইউহানের ল্যাবরেটরি।
আর এই ভাইরাসটি কোনও প্রাকৃতিক ভাইরাস নয়। সম্পূর্ণভাবে মনুষ্যসৃষ্ট এবং তা প্রমাণ করার জন্য উপযুক্ত প্রমাণ তাঁর কাছে আছে। আর এই কারণেই করোনা আবহে তড়িঘড়ি দেশ ত্যাগ করতে হয় লি মেং ইয়ান নামে এই গবেষককে। চীন না ছাড়লে জিনপিংয়ের সরকার তাঁকে খুন করত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই ভাইরাসবিদ।
তবে লি মেং ইয়ানের জন্মগ্রহণ হংকংয়ে। কিন্তু চীনেই চলত তাঁর গবেষণার কাজ। চলতি বছরের শুরুতেই নিজের প্রাণ হাতে নিয়ে তাঁকে চীন (China) ছাড়তে হয়। নিরাপত্তার খাতিরে তিনি আপাতত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) রয়েছেন।
বিভিন্ন দেশ করোনার জন্য চীনকে দায়ী করলেও বারবারই নিজেদের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছে চীন। তবে শি জিনপিং সরকারের দাবি উড়িয়ে ইয়ানের মন্তব্য, “উহানের (Wuhan) যে ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে সেটি চীনা সরকারের তত্বাবধানে ছিল। এই ভাইরাস ইউহানের ল্যাবে যে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে তা তিনি প্রমাণ করতে পারবেন বলেও দাবি করেছেন। ওই ভাইরোলজিস্টের আরও দাবি, করোনা সংক্রমণ নিয়ে লাগাতার মিথ্যা বলেছে সরকার। গত বছরের শেষে চীনের পূর্বাঞ্চলে নিউমোনিয়ার মতো এই রোগ ছড়িয়েছিল। প্রথমদিকে এই রোগ নিয়ে গবেষণাকারীদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। কিন্তু যখন রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে তখন তাঁকে চুপ করে থাকতে বলা হয়। তাঁর সুপারভাইজার তাঁকে বলেন, চুপ করে না থাকলে তাঁদের মেরে ফেলা হতে পারে।”
ইয়ান আরও বলেছেন, “করোনা ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট-এর মতো। আমি প্রমাণ দিয়ে মানুষকে বুঝিয়ে দিতে পারব যে চীনের ল্যাবেই এই ভাইরাস তৈরি হয়েছে। জীববিজ্ঞানের জ্ঞান না থাকলেও যে কেউ তা বুঝতে পারবে এবং নিজেরাই তা বিচার করতে পারবেন।”





