Covid19 Crisis: ইকুয়েডর-এর রাস্তা যেন এখন সাক্ষাৎ শ্মশানরাজ্য

করোনার আতঙ্কে এখন সবার দিন কাটছে। আমেরিকা, ইতালি, ফ্রান্স এখন মৃত্যু মিছিল গুনছে। রোজই কত কত মানুষ মারা যাচ্ছে। এবার রাস্তায় মৃতদেহ পরে থাকতে দেখা গেল ইকুয়েডরের রাস্তায়।

বছরের এই সময় গুয়াকুইল শহরের রাস্তায় ভিড় জমে থাকে। মানুষের কোলাহলে মুখরিত হতে থাকে চারিদিক।কিন্তু এবারে সবই ফাঁকা, যেন এক শ্মশানরাজ্য। রোজই রাস্তা থেকে কারও না কারও লাশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। সেখানে ভয়াবহতা গ্রাস করেছে প্রতিটা মানুষকে।বাড়ির কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেই তাঁকে রাস্তায় শুইয়ে দিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়জনরা।

আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকায় হাসপাতালে আর জায়গা নেই। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পরিকাঠামোই নেই তাদের। ইকুয়েডর যেন কোভিড-১৯ এর কাছে হার মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে একপ্রকার।

ইকুয়েডর পুলিশ জানিয়েছে, তাদের দেশে করোনা মহামারির কবলে থাকা গুয়াকুইল শহর থেকে গত তিন সপ্তাহে অন্তত ১ হাজার ৪০২ জনের মৃতদেহ তুলে নিয়ে গেছে। বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৭৭১টি ও হাসপাতাল থেকে ৬৩১টি লাশ। রাস্তায় দুই ধরে, যে কোনো স্থানে পড়ে রয়েছে নামহীন মৃতদেহ। শেষকৃত্যতে পাশে দাঁড়াচ্ছে না পরিবারের কেউই। এই অবস্থায় সব লাশের শেষ ঠিকানা গণকবর। কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। ইকুয়েডর সরকার জানিয়েই দিচ্ছে তারা ভাইরাস রোধে ব্যর্থ। মরদেহ উদ্ধারকারী দলের প্রধান জর্জ ওয়েটেড জানিয়েছেন, দেশে মোট করোনা আক্রান্তের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ গুয়াকুইল শহরের বাসিন্দা। গুয়াসেসের উপকূলীয় এই শহরটিতে এখনও পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

গুয়াকুইল শহরের বাসিন্দারাই মৃতদেহ পরে থাকতে দেখলে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য খবর দিচ্ছেন প্রশাসনকে। ইকুয়েডর সরকার দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে। দিনের মধ্যে প্রায় ১৫ ঘণ্টাই কারফিউ। সংক্রমনের হার এতটাই বেড়ে গেছে যে পরিস্হিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। চলতি মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছে ইকুয়েডরের প্রশাসন।

RELATED Articles

Leave a Comment